ছয়টি আসনে ৭০টি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে

bdwebhost24.com

নওগাঁয় গণ গ্রেফতার ও নির্বাচন অফিস ভাংচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নওগাঁ জেলা বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহরের কে,ডির মোড়ে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব নাজমুল হক সনি।
লিখিত বক্তব্যে নজমুল হক সনি বলেন, গত কয়েক দিনে জেলার ৬টি আসনে সরকারের নীল নকশা অনুযায়ী দলের শতাধিক ত্যাগী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন বিস্ফোরক মামলায় দেয়া হচ্ছে। প্রায় ৭০টি বিএনপির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পোষ্টার ছিড়ে ফেলাসহ পোষ্টার লাগাতে বাধা দেয়াসহ নির্বাচনী প্রচারনা বন্ধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে পুলিশ বাহিনী দিয়ে নানা রকম হুমকি ও হয়রানিসহ বাড়িঘর ছাড়া করা হচ্ছে। পুলিশ আজ আওয়ামী সন্ত্রাসীর ভুমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র হয়রানি ও নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপিকে সরে যেতে বাধ্য করতেই আওয়ামী পুলিশলীগের এই গণ গ্রেফতার ও গায়েবি মামলার মহড়া।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জেলা রিটানিং কর্মকর্তাকে আবেদন করা সত্বেও কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি। তাই নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দর করতে হলে সকল প্রকার গ্রেফতার ও গায়েবি মামলা বন্ধ করতে হবে এবং তদন্ত পূর্বক হেলমেট বাহিনী আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীদের গ্রেফতার করতে হবে। জেলা বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের উপর আওয়ামী সন্ত্রাসী হেলমেট বাহিনী আক্রমনের এবং আওয়ামী পুলিশের গ্রেফতার ব্যানিজ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই সঙ্গে গ্রেফতার কৃত সকল নেতাকর্মীদের নির্বাচনের পূর্বেই নিঃশর্ত মুক্তির দাবী ও পুলিশ প্রশাসনের গন গ্রেফতার বন্ধ ও গায়েবি মামলা বন্ধের দাবী জানান।
এসময় নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির বলেন, বিগত সময়ে ৫ম থেকে ৮ম পর্যন্ত পর পর ৪বার এমপি ছিলাম। আমি দেশের বহু নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন ও উপ নির্বাচন পরিচালনা করেছি। কিন্তু কখনও কোথাও এমন অস্ত্রবাজ ভয়ভীতি ত্রাসের রাজত্ব ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সামনে সন্ত্রাসের এমন বিস্তার দেখি নাই। সরকার দলের নৌকার প্রার্থী প্রকাশ্যে হুমকী দিয়েছেন, ব্যালট পেপার ছেড়া ও বাক্স্র বোঝাই ভোট করবেনএবং কেন্দ্র দখল করবেন। গত ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর এই দুই দিন তারা সাদা পোষাকে হেলমেট বাহিনী তোফা বাহিনী, আর্ট বাবু বাহিনী ও মান্নান মেম্বার বাহিনী নামিয়ে আত্রাই রানীনগরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটিয়েছে, মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত। রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন উপাদান সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র‌্যাব বিজিবি ও সেনাবাহিনী জাতীর সংকট মুহুর্তে সবসময় অবদান রেখেছে। তারা এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর অপতৎপরতা ধ্বংস ও ধূলিসাৎ করে রাষ্ট্র রক্ষায় স্বরণীয় হয়ে থাকবেন বলে অনুরোধ জানান। এছাড়াও আত্রাই রানীনগরের অবাধ নিরপেক্ষ সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা সমুহ আনছার বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ ও প্রখর নজরদারীর জন্য দাবী জানান তিনি।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নওগাঁ সদর আসনের বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম টুকু ও আমিনুল হক বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন ও শফিউল আজম ওরফে ভিপি রানাসহ জেলা বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কয়েকশত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

bdwebhost24.com
সূত্রঃমানবজমিন
শেয়ার