আব্দুল মোত্তালেব সেলিম, নকলা :
শেরপুরের নকলা উপজেলায় মানুষ র্দীঘদিন ধরে ফায়ার সার্ভিস বা আগুন নির্বাবক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ উপজেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বঞ্চিত হয়েছে এই ক্ষেত্রটি। এক যুগ ধরে ফায়ার সার্ভিস ভবনটি স্থাপিত হলেও চালু হয়নি এর কার্যক্রম। ফলে বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকান্ডে বিপুল ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে উপজেলার জনসাধারণ।
এলাকাটির পৌর শহর সহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ শর্টসার্কিট থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। যা নিভানোর জন্য সুদুর শেরপুর ও নালিতাবাড়ির সার্ভিস স্টেশন থেকে মোবাইল ফোন বা টেলিফোন এর মাধ্যেমে যোগাযোগ করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার আগেই বেশিরভাগ ঘটনায় বিপুল পরিমান ক্ষতি হয়ে যায়। জানা গেছে জমির উপর আদালতে মামলা চলার কারণে ফায়ার স্টেশনটির কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় অধিবাসী আ. করিম ও শাজাহান জানায়, জমির উপর আদালতে মামলা থাকার কারণে স্টেশনটির কার্যক্রম চালু হচ্ছে না। এটাই আমরা জানি। কিন্তু কয়েক দিন পর পর ওপর থেকে লোক আসে আর গাড়ি থেকে নেমে দেখে চলে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না।
জমি সংক্রান্ত মামলার বাদী কেশব বাবু জানান, সরকারের সাথে যোগ-সাজসে উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান বাজার মূলে প্রাপ্ত অর্থ আমাকে প্রদান করা হলে আমি আমার মালিকানা ছেড়ে চলে যেতাম।
স্থানীয়দের মতে, ভবনটি নির্মিত হয় ২০ হতে ২৫ শতক জমির উপর। এসব জমির একাধিক মালিক থাকার কারণে ভূমির কেউ মূল্য পেয়েছে আবার কেউ পায় নাই। এসব নিয়ে বিষয়টিতে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নকলা ফায়ার স্টেশনটির বিপরীতে ৭ জন কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত একজন।
তিনি জানান, নকলা ফায়ার স্টেশনের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি সম্ভবত শেরপুর ফায়ার স্টেশনে জমা রয়েছে। এছাড়া নকলার জন্য নিয়োগকৃত ব্যক্তিরা ডেপুটেশনে শেরপুর সদর, মুক্তাগাছা ও নালিতাবাড়ী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত রয়েছেন।
বর্তমানে ফায়ার স্টেশনটিতে ইন্তাজ আলী নামের একজন নৈশ প্রহরী পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন। স্টেশনটিতে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
এলাকাবাসী দাবী করেছে যত দ্রুত সম্ভব জমি সংক্রান্ত ঝামেলা মিটিয়ে স্টেশনটি চালু করার।

Facebook Comments
bdwebhost24.com