গণধর্ষণ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট প্রদান করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ধর্ষিতা খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি স্বামী-সন্তান নিয়ে কয়রা উপজেলার খেওনা গ্রামে বসবাস করছি। আমার স্বামী আবু বকর সানা ১ নং আমাদি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি। আমার স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় বাবলু সরদারের মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে আমার ছেলে রিয়াজুল ইসলামকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরিবারের সকলকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলার আসামি হওয়ায় রাতে আমার স্বামী পাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে ঘুমাতেন। এ অবস্থায় গত ১৫ই সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে আমি বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিলাম। এসময় স্থানীয় রফিকুল ইসলাম সরদার, আব্দুল করিম মোড়ল, হাবিবুর রহমান, বাবলু সরদার, সোহাগ মোড়ল, ওহিদুজ্জামান মোড়ল বাবুসহ আরো ৫/৬ জন বাড়িতে আসে। তারা লাথি মেরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা আমার হাত মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে পাশের মাজেদ সানার বাঁশবাগানে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। গণধর্ষণ করেই তারা শান্ত হয়নি। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নির্যাতন করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি না করায় মোটা তার দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। আমার গোঙানি শুনে আশেপাশের লোকজন টর্চলাইট মেরে এগিয়ে আসলে লম্পটরা আমাকে ফেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে। আমি সুস্থ হওয়ার পর ২৪/০৯/১৭ ইং তারিখে উল্লিখিতদেরকে আসামি করে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করি। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ। কিন্তু প্রথম থেকেই তিনি আমাদের অসহযোগিতা করে আসছিলেন। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তিনি তাদের ধরতেন না। আসামিদের না ধরে আমার ছোট দেবর ৪/৫ বছর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রফিকুল সানাকে থানায় ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এবং তাকে বলে তোর ভাই ও ভাবির সঙ্গে মোবাইল ফোনে বা মৌখিকভাবে কোনো  সম্পর্ক রাখতে পারবি না। আমার দেবরকে এভাবে নির্যাতন করে রাত একটায় ছেড়ে দেয়। আসামিদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের পক্ষে কাজ করেছেন। আমি যাতে মামলা পরিচালনা করতে না পারি তার জন্য ওই আসামিরা আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা ও লিখিত অভিযোগ করতে থাকেন। এ অবস্থায় আমি এ মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি। তাকে গত ১৫ নভেম্বর আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন চাওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ জামিনের বিরোধিতা না করে উল্টো আসামির পক্ষে সাফাই গায়। ফলে বিজ্ঞ বিচারক বিরক্ত হয়ে তাকে তিরস্কার করেন। এ ঘটনার পরের দিন ১৬ই নভেম্বর ওই তদন্ত কর্তা আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন। ফলে  গ্রেপ্তারকৃত আসামি জামিন পেয়ে যায়। আমি আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করলে আদালত আগামী ২৫শে জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। এ অবস্থায় এই মামলা নিয়ে যাতে এগোতে না পারি তার জন্য আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আমি গ্রামে যেতে পারছি না।

bdwebhost24.com