আশরাফুলের চিটাগং ভাইকিংসে যাবার গল্প

সব নিষেধাজ্ঞা শেষ। দু’বার করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আর পর জাতীয় লিগ খেলে ফেলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফার্ষ্ট ক্লাস টুর্নামেন্ট বিসিএলও খেলা হয়ে গেছে। বাকি ছিল শুধু বিপিএল।

এবার আশরাফুল ছিলেন মুক্ত বিহঙ্গ। বিপিএল খেলার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, এবার তাও থাকবে না। তার মানে দেশের ক্রিকেটের সাড়া জাগানো ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর হাতছানি দিচ্ছিল আশরাফুলকে। অগণিত ভক্ত আশায় বুক বেঁধে আছেন প্রিয় ক্রিকেটারকে আবার বিপিএলে দেখতে।

আশরাফুল খেলতে মুখিয়ে। কারণ তার মুখে বার বার উচ্চারিত হয়েছে-বিপিএল অনেক বড় প্লাটফর্ম। এ আসরে ভালো খেলতে পারলে আবার সবার নজরে আসা যাবে। ভবিষ্যতের দরজাও খুলবে। ভক্তরাও উন্মুখ। তাতে কি? আগে তো তাকে কোনো দলে নাম লেখাতে হবে!

এই বিপিএলে স্পট ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগেই অভিযুক্ত হয়েছিলেন যে ক্রিকেটার, তাকে নেয়ার আগেও যে বার কয়েক ভাবনার অবকাশ থাকার কথা। যদিও আশরাফুল নিষেধাজ্ঞার খাড়া মাথায় আসায় পরপরই বার বার দেশ ও জাতির কাছে ভুল স্বীকার করেছেন।

তারপরও সংশয়-সন্দেহ ছিল, শেষ পর্যন্ত আশরাফুলের নাম প্লেয়ার্স ড্রাফটে উঠবে তো? আর যদি ওঠেও তাহলে কোন দল নেবে? সেটাই ছিল দেখার।

ড্রাফট শুরুর ঘন্টা খানেক আগে মুশফিক ইস্যুর সমাধান হবার পর প্লেয়ার্স ড্রাফটে আলোচিত ছিলেন শুধুই আশরাফুল। তাকে কোন দল নেয় এবং নেবার পর ব্যাখ্যাটা কি আসে?

‘বি’ ক্যাটাগরির স্থানীয় ক্রিকেটারদের বেশির ভাগ প্রথম চার কলেই ডাক পেয়ে গেলেন। একেক দল ঐ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের বেছে নিলেন। তবে আশরাফুলকে প্রথম দিকে কেউই ডাকেননি।

অবশেষে স্থানীয় আর বিদেশি মিলে সাত নম্বর কলে (দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে পঞ্চম) আশরাফুলের নাম উঠলো। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারকে টেনে নিল চিটাগাং ভাইকিংস।

দল পাবার পর আশরাফুলও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিটাগাং ভাইকিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি, কোচ এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ কি ভেবে আশরাফুলকে দলে টানলেন? তা জানতেও বিস্তর আগ্রহ ভক্তদের।

প্লেয়ার্স ড্রাফট শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে চিটাগাং ভাইকিংস অধিপতি আশরাফুলকে নেবার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অন্যরকম এক মন্তব্য করেছেন। তার কথা শুনে মনে হলো, তিনি যে সব ক্রিকেটার ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত হয়ে নিষিদ্ধ হবার পর ভুল স্বীকার করে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত, তাদের ব্যাপারে দুর্বল। তাদের দলে নিতে একটা অন্যরকম তাগিদও অনুভব করেন।

চিটাগাং ফ্র্যাঞ্জাইজির মালিক পাকিস্তানের ফাস্টবোলার মোহাম্মদ আমিরকে দলে নেয়ার উদাহরণ টেনে আনেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর আগে ডিবিএল গ্রুপ বা তার ফ্র্যাঞ্চাইজি আবদুল ওয়াহেদ ম্যাচ গড়াপেটায় জড়িত হয়ে নিষিদ্ধ হওয়া আমিরকেও দলে নিয়েছিলেন।

নিষিদ্ধ আমির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দেশের বাইরে প্রথম কোন টুর্নামেন্ট খেলতে আসেন এই বিপিএলের চতুর্থ আসরে (২০১৬ সালে) এবং সেটা এই চিটাগাং ভাইকিংসেই।

সে প্রসঙ্গ টেনে চিটাগাং ভাইকিংস অধিপতি আব্দুল ওয়াহেদ অনেক কথার ভীড়ে বুঝিয়ে দেন, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা ক্রিকেটারদের দলে নিতে তার ভালো লাগে। আর যেহেতু ধরা হয় বা ভাবা হয় বিপিএলে ভালো বল করেই আমির আবার পাকিস্তান দলে ফেরেন, তাই আশরাফুলের ব্যাপারেও নাকি আব্দুল ওয়াহেদ অমনই ভাবছেন।

(জাগোনিউজ থেকে সংগ্রহীত)

bdwebhost24.com
শেয়ার