ব্যয় বেড়ে সাড়ে ৭০০ কোটি, আয় ৩ কোটি টাকা

bdwebhost24.com

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয় ৭০২ কোটি টাকা। নির্বাচনের পর আনসার বাহিনীর দাবি অনুসারে আরও ৮০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে সাড়ে ৭শ কোটি টাকা হয়েছে।

নির্বাচনের দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে। বাকি অর্থ ব্যয় হয় নির্বাচনী সামগ্রী ও ব্যালট পেপারে। এ নির্বাচনে ইসির আয়ও হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা, যা এসেছে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তের অর্থ থেকে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমদ খান আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনী খাত অনুসারে ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি। শিগগিরই করা হবে। আর জামানত বাজেয়াপ্তে অর্থ আয়ের খাতে ধরা হয়। এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। ইসির হিসাব শাখা সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিকভাবে ৭০২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৪৬২ কোটি এবং নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ধরা হয় ২৫৪ কোটি টাকা। ইসি এ অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেয়। নির্বাচন ব্যয়ের দুই-তৃতীয়াংশই খরচ হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে।

এই অর্থ নির্বাচনের আগেই দেওয়া হয়। তবে কোনো খাতে বেশি খরচ হলে যৌক্তিক আবেদনসাপেক্ষে বাকি অর্থও দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। পুলিশকে দেওয়া হয় ১০২ কোটি টাকা। বিজিবি ৫৩ কোটি, আনসার ১৬৩ কোটি, র্যাব ১০ কোটি ২০ লাখ, গ্রাম পুলিশ ৮ কোটি এবং কোস্টগার্ডকে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আনসার বাহিনী তাদের দেওয়া ভাতার দ্বিগুণ দাবি করে। নির্বাচন শেষে তাদের দাবি আংশিক মেনে নেয় ইসি ও অর্থ মন্ত্রণালয়। পরে তাদের আরও ৮১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। ফলে নির্বাচনের প্রাথমিক ব্যয় বেড়ে সাড়ে ৭শ কোটি টাকা দাঁড়ায়।

সূত্র জানায়, আগে আনসার সদস্যদের একদিনের ডিউটির জন্য ৫০০ টাকা দেওয়া হতো। এবার তারা ১ হাজার টাকা দাবি করে। তাদের দাবি অনুযায়ী ৭৫০ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবারের নির্বাচনে প্রায় সাত লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা কাজ করেন। এর মধ্যে রয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পেছনে ব্যয় হয় ১৬২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আপ্যায়ন ও ফুয়েল খরচসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অফিস খরচ ও মনোহারি ব্যয় হয় ১০ কোটি টাকা। ভোটকেন্দ্র (কেন্দ্র প্রস্তুত) ব্যবস্থাপনায় ৩০ কোটি টাকা। ব্যালট পেপারের কাগজ ক্রয় ৩৫ কোটি টাকা। নির্বাচনী সামগ্রী ৩৫ কোটি টাকা। ঢাকা থেকে কেন্দ্রে মালামাল নেওয়া ব্যয় ৫০ লাখ টাকা।

ইসি সচিবালয় কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন শেষে সবাই তাদের খরচের চূড়ান্ত হিসাব ইসিতে জমা দেবেন। কারও বেশি লাগলে জানাবেন। আবার কারও টাকা থেকে গেলে তা ইসিতে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে ফেরত খুব কমই আসে।

এদিকে এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ২৯৮ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ হাজার ৮৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২২ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। প্রত্যেক প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। আইন অনুসারে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের একভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসাবে ১ হাজার ৪২২ প্রার্থীর বাজেয়াপ্তে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

জানা গেছে, জামানতের এই অর্থ একটি কোডের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে এটা ইসির আয় হিসাবে দেখানো হয়।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫৩ আসনে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট হয়েছিল ১৪৭ আসনে। ওই আয়োজনে ব্যয় হয়েছিল মোট ২৬৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৯ টাকা।

bdwebhost24.com
শেয়ার