নকলায় ভেঙে পড়ল নির্মাণাধীন সাবস্টেশন ভবনের ছাদ

সাবস্টেশন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পর ধসের ঘটনা

bdwebhost24.com

শেরপুরে নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে নির্মাণাধীন পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পর ধসের ঘটনা ঘটেছে।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এ ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এদিকে ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্মাণাধীন ভবনটির তিন দিকে ডেকোরেটরের কাপড় টানিয়ে তড়িঘড়ি করে আবারও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলের গিয়ে ছাদ ধসের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় এবং নির্মাণাধীন ভবনটি কাপড়ে ঘেরা অবস্থায় দেখা যায়।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেনি। সাটারিং কাজে ব্যবহৃত বাঁশের স্ট্রেন্থ (সহন ক্ষমতা) কম হওয়ায় পুরণো বাঁশ পরিবর্তন করে নতুন করে শক্ত বাঁশ দিয়ে সাটারিং করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষায়ই কথা বলছেন। তারাও জানান, সাটরিং এর বাঁশের সহনশীল ক্ষমতা কম থাকায় কিছু সমস্যা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুতের ভবনটির দোতলার ছাদের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ১১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যার পর পরই ছাদটি বাঁশের সাটারিংসহ ধসে পড়ে। ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজে কাজটি না করে এমদাদ হোসেন নামে একজনকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি করাচ্ছেন। কাজের কোনো তদারকি নেই। তারা নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণ কাজ করছেন। তাই ছাদ ধসের মতো ঘটনা ঘটেছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ‘সাপ্লাই ইন্সটলেশন টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব ৩১/১১ কেভি সাবস্টেশন’ নির্মাণ কাজ চলছে শেরপুরে নকলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বাছুর আলগা গ্রামে। সাব-স্টেশনটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। সানরাইজ এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্যাকেজের মধ্যেই ২২ ফুট বাই ৩৪ ফুট আয়তনের ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে। যার প্রথম তলার উচ্চতা ১০ ফুট এবং দ্বিতীয় তলার উচ্চতা ১৩ ফুট।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানরাইজ এন্টারপ্রাইজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুনতাসির মামুন বলেন, তিন দিন আগে যেদিন ছাদ ঢলাই কাজ করার কথা ছিল তখন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাটারিং কাজে ব্যবহৃত বাঁশের মান ভালো নয় বলে আপত্তি করে সেগুলো পরিবর্তন করতে বলেন। আমরা সেইসব বাঁশ সরানোর কারণে ছাদ ধসে পড়ার রিওমার ছড়িয়েছে। এখন আমরা নতুন করে ভালো বাঁশ এনে আবারো কাজ শুরু করছি।

 

পর্দা দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু একটি রিওমার হয়েছে ছাদ ধসে পড়ার এজন্য লোকজনের আনাগোনা কমাতে পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে।

তবে কাজটি তাদের নামে হলেও ওয়াহেদ নামে একজন সাব কন্ট্রাক্টে কাজটি করছে এবং তাদের কোম্পানির একজন সহকারী প্রকৌশলী সাইটে কাজটি বুঝে নেয়ার জন্য রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, ছাদ ধসের ঘটনা জানার পর পরিদর্শন করে দেখেছি। কাজের গুণগত মান ভাল না। তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে মানা করেছি। আমি কাপড় সরিয়ে জনসমক্ষে কাজ করতে বলেছি।

পল্লী বদ্যুতায়ন বোর্ডের জামালপুর প্রকল্প বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আহাম্মেদ আলী জানান, ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এ কাজে ভবনের ব্যয় ৩০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, কাজ ভাল হচ্ছে। সাটারিং এর দুর্বল বাঁশের কারণে ছাদ ঢালাই নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তবে ঠিকাদার বলেছেন, তারা আমাদের ভালোভাবে কাজ বুঝিয়ে দেবেন।

bdwebhost24.com