শুক্রবার, নভেম্বর ২৬, ২০২১
18.6 C
Sherpur
বাড়িশেরপুর জেলানালিতাবাড়ীনালিতাবাড়ীতে তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, ভাংচুর

নালিতাবাড়ীতে তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, ভাংচুর

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় ভাংচুর করেছে। সোমবার সকালে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের তিনরাস্তার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।রবিবার রাতে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের হাতে গাঁজাসহ আটক হয় পৌরশহরের মৃত বিধান চন্দ্র দে’র পুত্র বিশ^জিৎ চন্দ্র দে (১৭) নামে এক তরুণ। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধ রাতেই মুচলেকা রেখে বিশ^জিৎকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু থানা থেকে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশ^জিত এবং রাতেই নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্বজিত এর মৃতুতে রাতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ থানায় পুলিশী নির্যাতনের কারণেই অসুস্থ হয়ে মারা যায় বিশ্বজিত। বিশ্বজিতের মৃতদেহ নিয়ে সকালে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের শহীদ মিনারস্থ তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয় এলাকাবাসী।

এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন সহকারি পুলিশ সুপার নালিতাবাড়ী সার্কেলের কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, এসময় কার্যালয়ের জানালার কাচ ভেঙ্গে যায়।
পরে শেরপুর থেকে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এবং অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান পুলিশ আধিকারিকরা।

নিহতের স্বজনরা জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তারাগঞ্জ উত্তর বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে গাঁজা রাখার কথিত অভিযোগে বিশ্বজিতকে আটক করেন নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন। আটকের সময়ই বিশ্বজিতকে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাবার পরও বিশ্বজিতকে মারধোর করা হয। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে থানা থেকে রাত ১০টার দিকে মুচলেকা দিয়ে বিশ্বজিতকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এদিকে বাড়িতে গিয়ে মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশ্বজিত। এমন অবস্থায় তাকে নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনে সুমনের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) রফিকুল হাসান গণি জানান, ‘গাঁজাসহ বিশ্বজিতকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন এসে সে নেশাসক্ত এবং অসুস্থ হিসাবে এবারের মতোন তাকে তাদের জিম্মায় দিতে বলেন। পরে মুচলেকা দিয়ে তারা নিজ জিম্মায় নেন বিশ্বজিতকে।’

পুলিশ সুপার আরো জানান, ‘যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, আমরা তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। যদি ময়নাতদন্তে কোন কিছু পাওয়া যায় তাহলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

আরও সংবাদ

- Advertisement -spot_img

অন্যান্য সংবাদ

- Advertisement -

%d bloggers like this: