বার্তা ডেস্কঃ শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া সিদ্দিকিয়া তেরাবাজার মাদরাসার কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় অর্ধশতাধিক রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের জামিয়া সিদ্দিকিয়া তেরাবাজার মাদরাসার কমিটি গঠন উপলক্ষে শনিবার বেলা ১১টায় ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়।

বর্তমানে ওই মাদরাসার সভাপতি হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ অদু এবং সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপন।

আজকের সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুকে অতিথি করা হয়।

এদিকে, অদু-স্বপনের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটির দাবি জানায় তাদের প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ। এরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সমর্থক বলে দাবি করেন।

এদের অভিযোগ, বর্তমান কমিটি সাধারণ সভায় নিজেদের পক্ষে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য শক্তিমত্তা প্রদর্শনে রুমান-ছানুকে অতিথি করেছে। এ নিয়ে হুইপ আতিক সমর্থকরা মাদরাসায় অবস্থান নিলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে তেরাবাজর মাদরাসায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে জোহর নামাজের পর সভা শুরুর উদ্যোগ নিলে উত্তেজনা দেখা দেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মারমুখি অবস্থানের কারণে মাদরাসার মোহতামিম সাধারণ সভার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।

পরে মাদরাসার সামনের মুন্সীবাজার সড়কে দুই পক্ষ ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় রাবার বুলেট ও ইট-পাটকেলের আঘাতে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়। আহতদের শেরপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

জামিয়া সিদ্দিকিয়া তেরাবাজার মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়ে দুই পক্ষের গোলযোগের কারণে সভার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ কয়েকজনের আহত হওয়ার কথা শুনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Facebook Comments
bdwebhost24.com