কে এই শেরপুর ১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন

ডা. সানসিলা জেবরিন, ডাক নাম প্রিয়াংকা।
bdwebhost24.com

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে যারা বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে সবার ছোট ডা. সানসিলা জেবরিন, ডাক নাম প্রিয়াংকা। জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। সে হিসেবে বয়স ২৫ বছরের কিছু বেশি। তিনিই একাদশ নির্বাচনে বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী।

তিনি শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মেয়ে। এ আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন তিনি ও তার বাবাসহ ৪ জন।

মনোনয়ন কেনা অন্য দু’জন হলেন, জেলা যুবদল সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদের। চারটি ব্যাংকে ঋণখেলাপির দায়ে প্রিয়াঙ্কার বাবা হযরত আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। সেইসঙ্গে ১২টি মামলা ঝুলছে তার নামে। তিনি প্রায় তিনমাস ধরে কারাবন্দি।

এদিকে মনোনয়নপত্রে দলীয় চিঠি যুক্ত না করায় বাতিল হয়েছে জেলা যুবদল সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদেরের মনোনয়নপত্র। এ কারণে তিনিই এখন বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী।

হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি ডজনখানেক বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে প্রায় তিন মাস ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন।

হযরত আলীর প্রার্থিতা আটকে যেতে পারে, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিএনপির হাইকমান্ড এ আসনে ডামি প্রার্থী হিসেবে তার মেয়ে ডা. প্রিয়াংকাকে মনোনয়ন দেয়।

সানসিলা স্থানীয়দের কাছে ডা. প্রিয়াংকা নামে পরিচিত। রাজনীতিতে আনকোরা প্রিয়াংকা চিকিৎসক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া ডা. সানসিলার তথ্যানুযায়ী-তার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন ২০১০ সালে। আর এমবিবিএস পাস করেন ২০১৬ সালে।

ডা. সানসিলা জেবরিন

এদিকে এই আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রার্থী পেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মো. নজরুল ইসলাম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর পর একই বছর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজরুল ইসলাম পুনরায় প্রার্থী হলেও নির্বাচিত হতে পারেননি।

জোটের রাজনীতির সমীকরণে পরের নির্বাচনগুলোতে এ আসনে ছাড় দিতে হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে।

এবার ধানের শীষের প্রার্থী পেয়ে খুশি স্থানীয় বিএনপি। নেতাকর্মীদের দাবি- ডা. প্রিয়াংকা বিভিন্ন সময় তার নির্বাচনী এলাকায় চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা দিয়েছেন।

নতুন কোনো ধরনের চমক সৃষ্টি না হলে তিনিই হবেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী টানা চারবারের নির্বাচিত এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।

bdwebhost24.com
শেয়ার