শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। দিগন্ত জুড়ে এখন হলুদ ফুলের সমারোহ। কৃষকরা আশাবাদী এবার সরিষার ফলনে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

উপজেলার চতল, বনগাঁও, দিঘিরপাড়, হলদিবাটা, ভারুয়া, ফাকরাবাদ, কুচনীপাড়া, ঘাগড়া, বাঘেরভিটা, গুরুচরণ, দুধনই ও আহম্মদনগর এলাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তরফ থেকে এসব এলাকার কৃষকদের পরামর্শসহ চাষের জন্য নানা ধরণের সহযোগিতা করা হয়। এরফলে ফলন ভালো হওয়াসহ সরিষা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে।
গুরুচরণ এলাকার সরিষা চাষী শফিউল আলম জানান, গতবার আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু এবার মনে হচ্ছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
এদিকে ধানের চেয়ে অল্প পরিশ্রম ও স্বল্প খরছে সরিষা চাষ করা যায় দেখে অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে এলাকার সরিষার তেল উৎপাদন করতেন এমন সাবেক মিল মালিক রহিম উদ্দিন জানান, আগে প্রচুর সরিষার ফলন হত উপজেলায়। আমরা মিলে সরিষা ভেঙ্গে তেল উৎপাদন করে অনায়াসে সংসার চালাতাম। কিন্তু সরিষার চাষ কমে যাওয়ায় সেই ব্যবসায় আমাদের আর থাকা সম্ভব হয় নাই। আমার মত অনেকেই এই পেশা ছেড়ে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
শুধু রহিম উদ্দিনের মিল নয়, এলাকায় সরিষা চাষ কমে যাওয়ায় এমন মিলই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই তাদের নিজ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
তবে এবার সরিষার আবাদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৎপরতায় কৃষকরা পুনরায় সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আর এবারের ভালো ফলন হওয়ায় যারা এতদিন হাত গুটিয়ে ছিলেন তারাও সরিষা চাষে পুনরায় আগ্রহী হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ. আউয়াল জানান, এবার উপজেলার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমাদের সরিষা ফলনে লক্ষমাত্রা ছিল তা পূরণ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সরিষা আবাদের মাঠ গুলো পরিদর্শন করেছি এবার ফলন ভালো হয়েছে আশা করি কৃষকরা লাভবান হবেন।

bdwebhost24.com