শান্তি ও সমপ্রীতির বার্তা নিয়ে আজ ঢাকা আসছেন পোপ  ফ্রান্সিস। ৩০ বছর পর খ্রিস্টান ক্যাথলিক সমপ্রদায়ের প্রধান কোনো ধর্মগুরু বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ঢাকা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ধর্মীয় ওই নেতাকে সাদর সম্ভাষণে প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ। পোপের সঙ্গে সাক্ষাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিক, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা ধর্মের সাধারণ লোকজন। নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সমপ্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দলও পোপের দেখা পাচ্ছে।

সর্বজনীন ওই সফরে পোপ জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৮০ হাজার পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে প্রার্থনা সভা ছাড়াও খ্রিস্টান যাজক এবং যুব সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে তার। ১৯৭০ সালে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের ১৪ দিন পর ২৬শে নভেম্বর তৎকালীন পোপ ষষ্ঠ পল ফিলিপাইনে যাওয়ার পথে বাংলাদেশে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেছিলেন। আর পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় এবং পালকীয় সফরে ১৯৮৬ সালের ১৯শে নভেম্বর পোপ দ্বিতীয় জন পল বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। ’৮৬ সালের পর রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় বা পালকীয় সফরে কোনো পোপ আজই বাংলাদেশে পা রাখছেন। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে পোপকে দেশবাসীর পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়েছেন। সফরকে ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো রাজধানী।
কূটনৈতিক এবং সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিকাল ৩টায় শতাধিক সফরসঙ্গী নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস ইয়াংগুন থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। তার সফর কভার করতে বিদেশি গণমাধ্যমের শতাধিক প্রতিনিধি ঢাকা আসছেন। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে পোপকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। সেখানে তাকে গার্ড অব অনারসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হবে। পোপকে স্বাগত জানাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং ভ্যাটিকান রাষ্ট্রদূতসহ কূটনীতিকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
পোপের সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কর্মসূচি হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রার্থনা সভা। ১লা ডিসেম্বরের ওই কর্মসূচিতে বাঁশ, কাঠ আর ছনের তৈরি ৮০ ফুট বাই ৫০ ফুটের কুঁড়েঘরের আদলে নির্মিত মঞ্চে বসে লাখো ভক্তকে নিয়ে প্রার্থনা করবেন। সেখানে দেয়া বক্তৃতায় তার শান্তি ও সমপ্রীতির ডাক দেবেন তিনি। লাল গালিচায় মোড়া পথে হেঁটে ভক্তদের কাছে পৌঁছাবেন তিনি। ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পোপ ফ্রান্সিস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। বঙ্গভবনে সেই বৈঠক হবে। বঙ্গভবনের দরবার হলে পোপের সম্মানে একটি মিলনমেলার আয়োজন করেছেন প্রেসিডেন্ট। সেখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত হয়েছেন। অতিথিদের সঙ্গে পোপের দেখা হবে, কথা হবে। পোপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা বৈঠক হবে। ভ্যাটিকান দূতাবাসে সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মীয় নেতা হিসেবে পোপ তার পালকীয় সফরে ঢাকায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এখানকার সবচেয়ে পুরনো চার্চ তেজগাঁওয়েও একান্তে কিছু সময় কাটাবেন তিনি। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ১৬ জন ডিনকে ধর্ম যাজকীয় উপাধিতে অভিষিক্ত করা, সারা দেশের কার্ডিনাল, আর্চ বিশপ ও বিশপদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ হবে তার। আগামী ২রা ডিসেম্বর নটরডেম কলেজে যুব সমপ্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বিকালে ঢাকা ছেড়ে যাবেন পোপ। পোপের সফরে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকান সিটির মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- পোপ এ পর্যন্ত অল্পক’টি দেশ সফর করেছেন। ফলে তার সফরে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে তিনি বাংলাদেশকে কতটা ভালোবাসেন। এছাড়া পোপ এমন এক সময় বাংলাদেশে আসছেন যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ব জনমতকে পাশে পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে। বিশেষ করে তাদের নিরাপদে রাখাইনে ফেরানোর প্রশ্নে। এদিক থেকেই পোপের সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ। মিয়ানমার সফরে পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি এড়িয়ে গেছেন দেশটির তরফে এক অনুরোধের কারণে। পোপের সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু কতটা প্রাধান্য পাবে, জানতে চাইলে ঢাকার কার্ডিনাল প্যাট্রিক  রোজারিও বলেন, পোপের বক্তব্যে অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক বিষয় স্থান পাবে। তবে তার সফর অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত। এছাড়া সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি  ছোট প্রতিনিধি দলকে ঢাকায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কথা যাতে পোপের কাছে পৌঁছায় আর্চ বিশপ হাউস সে লক্ষ্যে কাজ করছে। তার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের কথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
বর্ণিল সাজে সোহরাওয়ার্দী: পোপের সফর ঘিরে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। উদ্যানের কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় খড়ের ঘরের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে মঞ্চ। বিশেষ এই মঞ্চে ধারণ করা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্য। এই মঞ্চেই বসবেন পোপ ফ্রান্সিস। সামনের বিশাল দর্শক সারি সাজানো সাদা কাপড়ে মোড়ানো বাঁশ দিয়ে। উদ্যানজুড়ে সাউন্ড সিস্টেম। প্রবেশপথেও রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভিন্নতা। গতকাল উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে মঞ্চ, দর্শক সারিসহ প্রার্থনা সভা আয়োজনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ১লা ডিসেম্বর সকাল ১০টায় উদ্যানের প্রার্থনা সভায় যোগ দেবেন পোপ। পোপ প্রবেশের এক ঘণ্টা আগেই উদ্যানে সমবেত হবেন ৮০ হাজার ক্যাথলিক ভক্ত। পোপ ফ্রান্সিস গাড়িযোগে প্রবেশ করবেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন উদ্যানের গেইট দিয়ে। তার গাড়িটি থামবে কালীমন্দির সংলগ্ন প্রার্থনা সভার মঞ্চের পেছনে। তাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেবে শিশুরা। সেখান থেকে হেঁটে হেঁটে মঞ্চের সামনে রাখা ছোট আকারের বিশেষ একটি গাড়িতে উঠবেন পোপ ফ্রান্সিস। সঙ্গে ব্যক্তিগত সহকারী  ও নিরাপত্তারক্ষী। ছোট আকারের এই গাড়িটি অত্যন্ত ধীরগতিতে ভক্ত-দর্শকদের সামনের সরু রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসা করবে। এসময় কাছ থেকে হাত নেড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাবেন পোপ ফ্রান্সিস। দর্শকদের প্রতিটি সারি পেরিয়ে গাড়িটি মঞ্চের সামনে থামবে। সেখান থেকে লাল গালিচা দিয়ে হেঁটে হেঁটে মঞ্চে উঠবেন পোপ।
বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করা দৃষ্টিনন্দিত এই মঞ্চটি খড়ের ঘরের আদলে তৈরি করা হয়েছে। সভা চলাকালীন দেখলেই মনে হবে সাধারণ একটি ঘরে বসে আছেন পোপ ও তার সঙ্গীরা। মাথার উপরে খড়ের ছাউনি। মাটির ঘরের বারান্দার সিঁড়ির মতোই দুটি সিঁড়ি রয়েছে। সেখানে বসে ধুপবাতি ও মোম প্রজ্বালন করবেন ১০ আরতি কন্যা। মঞ্চের পেছনে রয়েছে তিনটি কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে চেয়ার, টেবিল, বিছানা ও বাথরুম। ওই তিন কক্ষটি পোপ ও তার সঙ্গে থাকা বিশেষ ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য। তিনটি কক্ষের কারণে পেছন থেকে পুরো মঞ্চকে একটি পরিপূর্ণ ঘর মনে হয়। সুন্দর এই মঞ্চের পরিকল্পনা করেছেন প্রকৌশলী সিসিলিয়া রোজারিও। এ প্রসঙ্গে সিসিলিয়া রোজারিও মানবজমিনকে বলেন, মঞ্চ তৈরিতে বাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। এখানে প্রাকৃতিক ছোঁয়া আছে। সেই সঙ্গে এই বিশেষ ব্যক্তিদের প্রয়োজনে তিনটি কক্ষের মাধ্যমে বিশ্রাম ও ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মঞ্চের পশ্চিম দিকে আরো একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেই মঞ্চে অবস্থান করবেন ফাদার মেক্স ওয়েলসহ ৩০০ শিল্পী। প্রার্থনা সভায় সংগীত পরিবেশন করবেন তারা। ভক্তদের প্রবেশের জন্য সকাল ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে চার রঙের চারটি রাস্তা। নির্ধারিত ভক্তদের প্রবেশ কার্ডের রঙের সঙ্গে মিল রয়েছে নির্ধারিত গেইটের রঙের। চারুকলা সংলগ্ন উদ্যানের গেটটি সাজানো হয়েছে কমলা রঙে। ওই গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন কমলা রঙের কার্ডধারী ভক্তরা। গোলাপি রঙের কার্ডধারী ভক্তরা প্রবেশ করবেন টিএসসি সংলগ্ন উদ্যানের গেট দিয়ে। বাংলা একাডেমি সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন কালো রঙের কার্ডধারীরা। বাদামি রঙের কার্ডধারীরা প্রবেশ করবেন কালীমন্দির সংলগ্ন গেট দিয়ে।
বিপুল ভক্তদের জন্য উদ্যানজুড়ে রয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। ক্রিস ইভেন্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠান সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্ব পালন করছে। মঞ্চের অদূরে রয়েছে বিদেশি সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা। দেশি সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে কয়েক দর্শক সারির পেছনে। তার পেছনে থাকবে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ভক্তরা বসবেন কার্পেটে। তবে মঞ্চের কালীমন্দির সংলগ্ন এক পাশে থাকবে চেয়ার। সেখানে বসবেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশি অতিথি ও রোগাক্রান্ত ভক্তরা।
প্রার্থনা সভার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ডেভিট এস দাশ জানান, দর্শক সারি, সাউন্ড সিস্টেম  ও মঞ্চ নির্মাণের জন্য প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। গত ১৯শে নভেম্বর থেকে কাজ শুরু করেন তারা। প্রথম কয়েক দিন শ্রমিক কম থাকলেও পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছে। বুধবার কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল উদ্যানের প্রতিটি গেটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ। পুলিশের রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, উদ্যানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স। তাদের পরিকল্পনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পোপ ফ্রান্সিসের আগমন উপলক্ষে দফায় দফায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। তার আসা-যাওয়ার পথ যানজট মুক্ত রাখতে সক্রিয় থাকবেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পোপ দেশে অবস্থান করবেন তিন দিন। প্রথম দিন বৃহস্পতিবারে রাস্তায় একটু চাপ থাকবে। ওই দিন তিনি নবীনগরে যাবেন। রাতে যাবেন বঙ্গভবনে। পরের দু’দিন তেমন চাপ থাকবে না। কারণ শুক্র-শনিবার রাস্তায় লোকজন কম থাকে। তারপরও আমরা সক্রিয় রয়েছি। পরিকল্পনা অনুসারে ওই তিন দিন বিশেষ দায়িত্ব পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সমপ্রীতি ও শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত হবে- প্রেসিডেন্ট: প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরের ফলে কেবল খ্রিস্টান সমপ্রদায় নয় বরং সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্য, ঐক্য, সমপ্রীতি ও শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত হবে। পোপ ফ্রান্সিসের আগমন উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। পোপ ফ্রান্সিস-এর বাংলাদেশে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিতে জাতিতে যখন সংঘাত, পারস্পরিক অবিশ্বাস তখন সমপ্রীতি ও শান্তির এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহাপূত পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফর একটি স্মরণীয় ঘটনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত খ্রিস্টানগণ দেশের আর্থ-সামাজিক ও জনহিতকর কাজে অবদান রেখে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসেবার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সমবায় সমিতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যদূরীকরণে তাদের অবদান প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পর পরই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে যে সব  দেশ স্বীকৃতি প্রদান করেছিল ভ্যাটিক্যান তাদের অন্যতম। পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে ভ্যাটিক্যান ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে- প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদার ও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।  পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ও স্থানীয় ক্যাথলিকমণ্ডলীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সফর করার কর্মসূচি গ্রহণ করায় আমি মহামান্য  পোপের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকানের মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদার ও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

bdwebhost24.com