ডেস্ক রিপোর্টঃ গত একসপ্তাহ যাবত চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় শেরপুর জেলার সর্বত্র জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো জেলা। এ সময় দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে। ব্রহ্মপুত্র নদে নৌ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে। অফিস-আদালতে সাধারণ মানুষের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। শীতের কারণে বোরো ধান আবাদের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে প্রচন্ড শীতের ফলে শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা সুধন্য চন্দ্র মন্ডল বলেন, আজ ১০ জানুয়ারি বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশকিছু শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলার গারো পাহাড় সংলগ্ন ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার এবং সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে তাঁরা কষ্ট পাচ্ছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নে গরীব ও দুস্থ পরিবারের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। অথচ সরকারিভাবে মাত্র ২ শ কম্বল দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি শীত মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৯ হাজার ৬ শ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা ইতিমধ্যে জেলার পাঁচ উপজেলার চারটি পৌরসভাসহ ৫২ টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমান আবহাওয়ায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ থেকে রক্ষার জন্য খেত থেকে চারা উত্তোলন ও তা জমিতে রোপণ না করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘন কুয়াশা কেটে গেলে জমিতে বোরো ধান আবাদের পরামর্শ দেন তিনি।

bdwebhost24.com