আব্দুল মোত্তালেব সেলিম, নকলা :
লাগবে হরেক মাল ঘটি বাটি হাতা চামচ চুরি টিপ কানের দুল মালা ……….. । আন্তঃজেলা ফেরিওয়ালা আল আমিনের এরকম সুর শুনে সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন তার দুই চাকার বাহনের প্রতি। শত পণ্যের ভিড়ে দেখাই যাচ্ছিল না বাহনটি। পেডেলেই চলে আল আমিনের দুই চাকার বাহন বাইসাইকেল। এই দুই চাকার ব্যবসায় চলে আল আমিনের সংসার, লেখাপড়াও করাচ্ছেন সন্তানদের। আল আমিন বছরের প্রায় ছয়মাস দেশের বিভিন্ন জেলায় বাইসাইকেলে পণ্যের পসরা সাজিয়ে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে থাকেন। দিনের শেষে যেখানে রাত সেখানেই রাত্রিযাপন করেন তিনি। আল আমিন চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার জসিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। ছয়মাস তারা আমের ব্যবসা করে কৃষি জমি নেই তাদের। তাই অবসর সময়ে আল আমিন বেরিয়ে পড়েন তার দুই চাকার বাহন বাইসাইকেল নিয়ে। গৃহস্থালী প্লাস্টিকের তৈজসপত্র ও নানা ধরনের গহনা বাইসাইকেল সাজিয়ে ছুটে চলেন এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। তবে গ্রামের পথেই তার আনাগোনা বেশি।

সম্প্রতি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বারইকান্দি নামাপাড়া এলাকার একটি রাস্তায় দেখা আন্তঃজেলা ফেরিওয়ালা আল আমিনের সঙ্গে। আল আমিন জানান, সে একজন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। তাই আমের ব্যবসা শেষ হয়ে গেলে বেরিয়ে পড়েন তার ফেরি ব্যবসায়। তার বাইসাইকেলে কমপক্ষে শত প্রকার পণ্য সাজানো রয়েছে। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করে থাকেন তিনি। এতে মাসে প্রায় দশ থেকে বারো হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। আল আমিনের ব্যবসার উল্লেখযোগ্য অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ জামালপুর শেরপুর ও টাঙ্গাইল । দুই চাকার বাহনে ব্যবসা করে আন্তঃজেলা ফেরিওয়ালা আল আমিন স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে ভালভাবেই সংসার চালাচ্ছেন। দুই সন্তানকেই লেখাপড়া করাচ্ছেন বলে আল আমিন জানান। আল আমিনের মতে, এ শেরপুর জেলার বটতলাতে প্রায় ৩/৪শত জনের মত এ ফেরি ব্যবসায়ীদের অবস্থান। তারা সেখান থেকেই শেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়ায়।

bdwebhost24.com