বঙ্গবন্ধু-১ নিয়ন্ত্রণ করবে ১৮ বাংলাদেশি তরুণ

বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণে গত বছর গঠন করা হয় বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। গত এক বছরে বিসিএসসিএল সারাদেশ থেকে জোগাড় করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনায় দক্ষ ৩০ তরুণকে। বিসিএসসিএলের অপারেশন ইউনিটে নিয়োগ পাওয়া ১৮ তরুণ দু’ভাগে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পরিচালনা করবেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাকি ১২ জন থাকবেন গ্রাউন্ড স্টেশনের সিভিল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাইটে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিংটেলের কান্ট্রি ম্যানেজার কাজী হাফিজ আল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। যদিও আগামী প্রথম তিন মাস সরাসরি এবং পরের তিন বছর আমাদের পেছন থেকে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি হবে তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে আমাদের ছেলেরা ওদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শিখবে, পরের ধাপে সমানে সমান, অর্থাৎ ওরা একটা পরিচালনা করলে আমরা অন্যটা করবো, শেষ ধাপে বাংলাদেশি তরুণ বিজ্ঞানীরা দুটো গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেবে। তবে পেছন থেকে সাহয্য করবে থ্যালেসের বিজ্ঞানীরা। তিন বছর পর পুরোপুরি অর্থাৎ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে।’
তারা বলেন, ‘বর্তমানে ছয়জন প্রকৌশলী বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজের দেখভাল করছেন। এছাড়া অপারেশন ইউনিটের সবাই ঢাকার গাজীপুরে অবস্থান করছেন। স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে থ্যালেসের হাতে প্রশিক্ষিত প্রকৌশলীরা কে কোথায় দায়িত্ব পালন করবেন। দুই কন্ট্রোল স্টেশনে মূল অপারেশনে কাজ করবেন ১৮ জন।’

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক প্রকৌশলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। মূলত আমরা সামনে থেকেই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করবো, বিদেশি বিজ্ঞানীরা পেছন থেকে আমাদের সহায়তা করবেন। গত দেড় বছরে বারবার বিষয়গুলো আমরা চর্চা করেছি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শুধু ওই বিষয়ে কাজ করছি।’

এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্যাটেলাইট থাকবে মহাকাশে। তবে তার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ হবে দেশের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে। উপগ্রহটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে (অরবিটে) ধরে রাখার কাজটি করবে গ্রাউন্ড স্টেশন। তবে উপগ্রহটি তার জায়গা থেকে মাঝে মাঝে সরে যেতে পারে। সেখানে আমাদের একটি ৭৫ কিলোমিটার জায়গা আছে। এর মধ্যে স্যাটেলাইটটিকে রাখতে হবে। কাজটিই এখান থেকেই করা হবে।’

‘এছাড়া স্যাটেলাইটের যাবতীয় মেইনটেন্যান্স কাজ দুই গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে করা হবে।’

স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো আমাদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। স্বাভাবিকভাবেই এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি লোকবল আমাদের লাগবে। তবে আমরাও চাই এর শতভাগ যেন আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই থাকে।’
‘অন্য কারো ওপর যেন নির্ভরশীল হতে না হয় সে চেষ্টা আমাদের রয়েছে। আগামী তিন বছর বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের জনবলের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। তো সে পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন’- যোগ করেন মন্ত্রী।

bdwebhost24.com
শেয়ার