সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো প্রতিহত করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যারা গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, গুজবকে কীভাবে প্রতিহত করা যায়, ফিল্টারিং করা যায় কি না তা নিয়ে ভাবছে তারা। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কোনো বাহিনী গড়ে তোলা যায় কি না সেটাও ভাবা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলার সময় ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালানো হয় এবং অফিস ভাঙচুর করে এক দল দুর্বৃত্ত। সেই সঙ্গে অফিসে ঢুকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে ১৭ জনকে আহত করা হয়। এ ছাড়া এর আগে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে কক্সবাজারের রামুতে মন্দির ভাঙচুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই রকম গুজব ছড়িয়ে হিন্দু সম্প্রদয়ের ওপর হামলা এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গুজব ঠেকানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তারা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে।

নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, গুজবকে প্রতিহত করতে আগে তারা জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। জেলা-উপজেলাসহ সারাদেশেই তারা এই সচেতনতা সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গুজব ছড়ানো হবে সঙ্গে সঙ্গে সেসব ফেসবুক আইডিগুলো চিহ্নিত করা। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলা। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশন আরও জোরদার করা হবে। এমনকি এক্সপার্টদের নিয়ে কোনো বাহিনী গড়ে তোলা যায় কি না সেটা নিয়েও ভাবছে সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার এক অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা আর গুজব ছড়ানোর জন্য নয়। আর যাই হোক, প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো কখনও সহ্য করা যায় না। কাজেই সবাইকে বলবো- কেউ গুজবে কান দেবেন না। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। ‘বাঙালিরা হুজুগে মাতেন’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পেছনে ছুটবেন- এটা যেন না হয়। কানে হাতটা দিয়ে দেখুন সেটা আছে কি না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির অফিসে হামলা চালানো, ভাঙচুর এবং ১৭ জনকে আহত করেছে। ‘এক শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলেছে, আরেকজনকে আওয়ামী লীগ অফিসে ধরে নিয়ে গেছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করেছে একটি কুচক্রী মহল। আর এই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে হামলা চালায় ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ওই দিন বিকেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি দল ধানমন্ডি কার্যালয় ঘুরে এসে জানায়, তারা গুজব শুনে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান গুজব সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ বিষয়ে এক্সপার্ট গড়ে তোলা ছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনকে আরও জোরদার করে গড়ে তোলা। এমনকি এক্সপার্টদের নিয়ে শিল্প পুলিশ, কোস্টগার্ড, হাইওয়ে পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের মতো ‘ফেসবুক পুলিশ’ বা ‘সাইবার পুলিশ’ গড়ে তোলা যায় কি না তা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া সচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। আমরা যদি মানুষকে বুঝাতে পারি- কোনো গুজব শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। গুজবে কান দেয়া থেকে জনগণকে দূরে থাকতে বলেন তিনি।

সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী গুজব প্রসঙ্গে প্রেস বিফিং করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বন্ধে সাইবার অপরাধ মনিটরিংয়ের জন্য আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে সেল মনিটরিং জোরদার করছি। সেই সঙ্গে ফেইসবুকে ফেক আইডিগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। বেশ কিছু আইডি ইতোমধ্যে ব্লক করা হয়েছে।

-jagonews24

Facebook Comments
bdwebhost24.com