‘খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

bdwebhost24.com

‘খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে গতকাল। রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ’র লেখা এই বই সম্পর্কে ইংরেজি দৈনিক নিউএইজ’র সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, গবেষণামূলক বই লেখা অনেক কষ্টের কাজ। কুড়াল দিয়ে গাছ কাটার মতো। আমি মাহফুজ উল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই। রাজনীতিবিদের ওপরে গবেষণা মানে ওই সমাজের ওপরে গবেষণা। মাহফুজ উল্লাহ প্রথম যে নামটা প্রস্তাব করেছিলেন ‘হার লাইফ হার স্ট্রাগল’। সেই নামটা ভালো ছিল।

কারণ খালেদা জিয়ার অনেক স্টোরি আমরা পাইনি। তার স্ট্রাগলটা পেয়েছি। নূরুল কবীর বলেন, খালেদা জিয়া বাহুবলের শাসক না। এখন যারা মানুষের আকাক্সক্ষা, চিন্তা-ভাবনাকে চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তারা বাহুবলে শাসন করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সহানুভূতি দিয়ে খালেদা জিয়ার উত্থান, তবে রাজনীতিতে অধিকার প্রতিষ্ঠায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ‘আনপ্যারালাল’ ভাবমূর্তি গড়ে তুলে ছিলেন। শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এখনো সে ভাবমূর্তি তিনি ধরে রেখেছেন। খালেদা জিয়া একমাত্র নেত্রী, যিনি দেশবিরোধী কোনো কাজে কখনো আপস করেননি। দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে নিজেকে আত্মনিয়োজিত করেছেন। আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে বায়োগ্রাফি লেখা কষ্টসাধ্য। তারপরও মাহফুজ উল্লাহ যে ঝুঁঁকি নিয়েছেন, সেজন্য শুধু বিএনপি নয়, নিরপেক্ষ সবাইকে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে হবে। তিনি বলেন, আজ যারা কথায় কথায় গ্রেনেড হামলার কথা বলেন, তাদের ভুলে গেলে চলবে না এই দেশে প্রথম খালেদা জিয়ার জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম আনোয়ার হাসিম বলেন, এ ধরনের বইয়ের প্রয়োজন আবশ্যক। দেশের রাষ্ট্রনায়কদের জীবনী লেখার প্রয়োজন আছে। ভবিষ্যতের জন্য, ইতিহাসের জন্য। বই সম্পর্কে তিনি বলেন, এই বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ১৯৪৫ থেকে ১৯৬০ সালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইটি ৬৩ বছর নিয়ে। ১৯৪৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত। প্রথম যে অধ্যায়, ১৯৬০ পর্যন্ত। একটা সুখী পরিবারের সদস্য হিসেবে বাবা-মা, ভাই-বোনদের নিয়ে আনন্দমুখর জীবন যাপন করেছেন খালেদা জিয়া। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ছিলেন। হাসি-তামাশা করতেন। খেলাধুলার শখ ছিল। তারপরে ৬০ সালে তার বিয়ে হয়। ৬০ সাল থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত তিনি গৃহকর্ত্রীর জীবন-যাপন করেন। স্বামী ও ছেলেদের নিয়ে আনন্দের সঙ্গে সংসার দেখাশোনা করেন। যদিও এরমধ্যে তিনি উৎকণ্ঠায় ছিলেন পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধের কারণে। তারপরে আসে একাত্তর।

কী একটা দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে তিনি গেছেন। তিনি পরিত্রাণ পাননি। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, বন্দি জীবন যাপন করেছেন। কারণ একটাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়ার স্ত্রী। আনোয়ার হাসিম বলেন, ৭৫ এর দ্বিতীয় ভাগ। সাংঘাতিক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। তারপর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি তার জীবনে। ১৯৮১ সালের মে মাস। ৩৬ বছর বয়সে স্বামীকে হারানো, এটা সাংঘাতিক একটা অবস্থা। ৮১ এর আগ পর্যন্ত তিনি সুচারুভাবে সংসার ও ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সালে কোনো উপায় না থাকায় তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, এগিয়ে নিতে তাকে রাজনীতিতে আসতে হয়। তারপর তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছেন সেই সংগ্রামে অন্যরাও শরিক হয়েছিল। তিনি আপসহীন নেত্রী। আদর্শে, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে আপসহীন।

মাহফুজ উল্লাহ’র বইয়ের সমকালীন রাজনৈতিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্বিষহ সেইদিন। ২০০৮ এর পরেও একই অবস্থা দেখছি। রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি নেই। মানুষের জীবনে শান্তি নেই। অনুষ্ঠানে বক্তারা লেখকের মুন্সিয়ানার প্রশংসা করেন। সেইসঙ্গে বইটি বাংলায় অনুবাদ করার অনুরোধ জানান। ইংরেজিতে লেখা ৭৭১ পৃষ্ঠার এই বইটির মূল্য দুই হাজার টাকা। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দি ইউনিভার্সেল একাডেমি। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতি। বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রফেসর লায়লা এন ইসলাম, কলামিস্ট ইকতেদার আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, চিত্রনায়ক হেলাল খান, আশরাফউদ্দিন উজ্জ¦ল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

bdwebhost24.com
সূত্রঃমানবজমিন
শেয়ার