বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১
29.4 C
Sherpur
বাড়িলাইফ স্টাইলঘাড় ব্যাথার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা

ঘাড় ব্যাথার কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সারা বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোন এক সময় ঘাড় ব্যথা তে ভূগেন। মেরুদণ্ডের ঘাড় এর অংশকে সারভাইক্যাল স্পাইন বলে। মেরুদণ্ডের প্রত্যেকটি হাড়কে ভার্টিব্রা বা কশেরুকা বলে। আর দুটি কশেরুকার মাঝের অংশকে বলা হয় ডিস্ক। মেরুদণ্ডের ওপরের সাতটি কশেরুকা, ডিস্ক, মাংশ পেশি ও লিগামেন্ট নিয়ে সারভাইক্যাল স্পাইন বা ঘাড় গঠিত। মাথা থেকে মেরুদণ্ড হয়ে নার্ভ (স্নায়ু) ঘাড়, কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুলের অনুভূতি (সেন্সর) ও মাংস পেশির নড়াচড়া (মটর ফাংশন) প্রদান করে। এ জন্য ঘাড়ের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী ঘাড় থেকে হাতের আংগুল পর্যন্ত বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

★ ঘাড়ে দুই ধরনের ব্যথা হয়ে থাকেঃ
১. লোকাল পেইন বা ব্যথা– যা ঘাড়েই সিমাবদ্ধ থাকে।
২. রেফার্ড পেইন বা ব্যথা– যা ঘাড় থেকে হাতের আংগুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ঘাড়ব্যথার কারণঃ

বিভিন্ন কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
১. সারভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস
২. সারভাইক্যাল স্পনডাইলাইটিস
৩. সারভাইক্যাল স্পনডাইলিসথেসিস
৪. সারভাইক্যাল রিবস্
৫. সারভাইক্যাল ক্যানেল স্টেনোসিস বা স্পাইনাল ক্যানাল সরু হওয়া
৬. সারভাইক্যাল ডিক্স প্রলাপ্স বা হার্নিয়েশন,যেখানে হার্নিয়েটেড ডিস্ক নার্ভের ওপর চাপ প্রয়োগ করে
৭. মাংসপেশী,হাড়,লিগামেন্ট,ডিস্ক ও নার্ভের ইনজুরি
৮. উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ
৯. হাড় ও তরুণাস্থির প্রদাহ ও ক্ষয়
১০. অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়
১১. হাড় নরম ও বাঁকা হওয়া
১২. রিউমাটয়েড-আর্থ্রাইটিস
১৩. সারভাইক্যাল অস্টিও-আর্থ্রাইটিস
১৪. ফাইব্রোমায়ালজিয়া
১৫. অস্টিওফাইটস
১৬. বোন টিবি
★ এগুলো আলাদা আলাদা ঘাড়ের রোগও হয়ে থাকে।
এছাড়াও দৈনন্দিন কাজের চাপে ও অভ্যাসগত কারনেও ঘাড়ের ব্যথা হয়ে থাকে। যাকে মেকানিক্যাল ডিসঅর্ডার বলা হয়। যেমন-
১. উঁচু বালিশে ঘুমানো
২. উপুড় হয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা
৩. দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা বা লেখা লেখির কাজ করা
৪. মাথায় ভারী জিনিস তোলা
৫. কাঁধে ভারী কিছু বহন করা ইত্যাদি

উপসর্গঃ
১. ঘাড়ব্যথা এবং এই ব্যথা কাঁধ থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
২. কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুলে অস্বাভাবিক অনুভূতি বা অবশ ভাব।
৩. হাত ঝিঁ ঝিঁ করা।
৪. সব সময় ঘাড় ধরে বা জমে (স্টিফনেস) থাকা এবং আস্তে আস্তে বাড়তে থাকা।
৫. ঘাড় নড়াচড়া ও দাঁড়ানো অবস্থায় কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
৬. হাতে শির শির করা।
৭. হটাৎ চিলিক দেওয়া।
৮. ঘাড় বা হাতে জ্বালা পোড়া করা ইত্যাদি ।

পরীক্ষা-নিরীক্ষাঃ
ঘাড়ব্যথার চিকিৎসা দেয়ার আগে কারণ নির্ণয় করার জন্য এক্সরে বা এম আর আই করা প্রয়োজন।
চিকিৎসক প্রয়োজনে আরও কিছু টেস্ট করাতে পারেন।

চিকিৎসাঃ
ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা এর কারণগুলোর ওপর নির্ভর করে। রোগীর ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিরাময় করে সুস্থ্য করে তোলাই চিকিৎসকের মূল উদ্দেশ্য থাকে।
চিকিৎসা গুলির মধ্যে রয়েছে –
১. ঔষধ সেবন
২. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা
৩. সার্জারি
এর মধ্যে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা,এটাই একমাত্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাঃ
একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগের কারন নির্ণয় করে বিভিন্ন ভাবে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করেন। যেমন-
১. ম্যানুয়াল বা ম্যানুপুলেশন থেরাপি
২. ইলেকট্রো থেরাপি ( IRR,UST,SWD,TENS,Traction,Laser,MWD etc.)
৩. থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ

উপদেশঃ
১. সামনের দিকে ঝুঁকে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা যাবে না।
২. মাথার ওপর কোনো ওজন নেওয়া যাবে না।
৩. প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে হবে।
৪. বেশি নরম বিছানায় ঘুমাবেন না।
৫. শোবার সময় একটা মধ্যম সাইজের বালিশ ব্যবহার করতে হবে।
৬. তীব্র ব্যথা কমে গেলেও ঘাড় নিচু বা উঁচু করা, মোচড়ানো (টুইসটিং) বন্ধ করতে হবে।
৭. অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কমাতে হবে।
৮. সেলুনে ঘাড় মটকানো যাবে না।
৯. কাত হয়ে শুয়ে দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা করা যাবে না বা টেলিভিশন দেখা যাবে না।
১০. কম্পিউটারে কাজ করার সময় মনিটর চোখের লেভেলে রাখতে হবে।

এই তথ্যগুলো বয়স্ক মা-বাবা এবং আত্মীয় পরিজনদের অবশ্যই জানিয়ে রাখুন।

মো: সাইদুল ইসলাম সনি
বিপিটি ( ডিইউ), এম টি (ঢাকা)
ডিপিটি (বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ)
ফিজিওথেরাপিস্ট
টেক কেয়ার ফিজিওথেরাপি সেন্টার
পাঁচ রাস্তা, জামালপুর।
মোবাইল: 01980-597829

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img

আরও সংবাদ

- Advertisement -spot_img

অন্যান্য সংবাদ

- Advertisement -

%d bloggers like this: