প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহে কবলে সারাদেশ। গারোপাহাড় অধ্যুষিত জেলা শেরপুরেও চলছে শীতের প্রচন্ড প্রকোপ। ঠান্ডা এবং সাথে কনকনে হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের জীবনযাত্রা্। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে সোমবার থেকে কমতে থাকবে শৈত্যপ্রবাহ। বাড়বে তাপমাত্রা। তবে মাসের শেষের দিকে আরেকটি শৈত্য প্রবাহের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে শৈত্যপ্রবাহ জনিত কারণে শেরপুরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী রয়েছে চরম দুর্দশায়। বিশেষ করে জেলার গারোপাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার গ্রামগুলোতে চলছে রীতিমত মানবিক বিপর্যয়। এসব অঞ্চলের শীতপীড়িত মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন সহায়তাও মেলেনি। এসব অঞ্চলের হাজার মানুষের জন্য সরকারী ভাবে শীতবস্ত্র এসেছে কম্বল যার পরিমানও অত্যন্ত অপ্রতুল।

ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা করিম জানিয়েছেন, ‘তাদের কাছে বিতরণের জন্য কম্বল এসেছে আড়াই হাজারে মতন। যা ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বরাদ্দ করে দেয়া হয়েছে।’

অথচ এই উপজেলায় বাংলাভাষী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দরিদ্র মানুষের সংখ্যার তুলনায় এই পরিমান কম্বল অত্যন্ত অপ্রতুল। এসব এলাকার দরিদ্র মানুষের অনেকেই জানিয়েছেন শীতে তাদের দুর্ভোগের কথা।

ছোট গজনী এলাকার একজন গৃহবধু আয়েশা জানালেন, ঘরে তার বৃদ্ধ শ্বশুর রয়েছেন। রয়েছে ছোটছোট ছেলেমেয়ে। তারা তাদের পরণের গরম জামাই কিনে দিতে পারছেন না। এরমধ্যে রাতে গায়ে দেবার মতন কম্বল কেনার সামর্থ্যও তাদের নেই।

একই রকম কথা বলেছেন অন্য দুই উপজেলা শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষও।

অন্যদিকে শেরপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষেরা শীতের প্রকোপে বিপর্যস্ত জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেষা চরগুলিতে বসবাসকারী মানুষেরা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। এসব চরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকাতেই কোন তরফ থেকে সহায়তা আসেনি। কারও কপালেই জোটেনি একটি গরম কম্বল বা কোন প্রকার শীতবস্ত্র।

bdwebhost24.com