সারা জেলায় চলছে খ্রিস্ট ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিনের আনন্দ আয়োজন। বিশেষ করে জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদীর পাহাড়ি পল্লীগুলো মেতে উঠেছে বড়দিনের আনন্দে। জেলা সদরের বিভিন্ন খিস্টান পল্লীতেও  উৎসবে মেতেছেন মানুষ।
জেলা সদরের চর শ্রীপুর, পৌর এলাকার কসবা গারোপল্লী, ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লী, নালিতাবাড়ী উপজেলার বারমারী সাধু লিওর ধর্মপল্লী ও শ্রীবরদী উপজেলার বাবেলাকোনা ধর্মপল্লী সাজানো হয়েছে নানা সাজে।

বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর তোরণ-গেইট নির্মাণ করতে দেখা যায়। এছাড়া বাড়ি-বাড়ি আলোকসজ্জা, ক্রীসমাস ট্রি এবং ঘরবাড়িও সাজানো হয়েছে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে বড়দিন উদযাপন করতে বাইরে চাকুরী কিংবা কর্মে নিয়োজিত অনেকেই নিজের বাড়ী ফিরে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাত করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। 

ঝিনাইগাতী উপজেলার খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে চলছে বড়দিনের উৎসব। উপজেলার ১৭টি গীর্জায় সকালে প্রার্থনা মধ্যে দিয়ে শুরু হয় উৎসব উদযাপন। দিনটিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে বসেছে মেলা, আয়োজিত হয়েছে বিভিন্ন আনন্দ অনুষ্ঠান।

সকালে উপজেলার সবচেয়ে সবচেয়ে বড় উপসনালয় মরিয়মনগর গীর্জায় সকালে প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দিনটির। সাধু জর্জ ক্যাথলিকের নামে প্রতিষ্ঠিত এই গীর্জায় অনুষ্ঠিত প্রার্থনা পরিচালনা করেন ফাদার সুবল কুজুর সিএসসি।

প্রার্থনা শেষে প্যারিস কাউন্সিলের স্থানীয় শাখার আয়োজনে বড়দিনের আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আনন্দ উৎসবে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উৎসব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইগাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা করিম। উৎসব অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিকে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী মিশনেও অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রার্থনা। উপজেলার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ দিনটি উপক্ষে মেতেছেন আনন্দে উৎসবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, শুভ বড়দিনের উৎসব পালনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে প্রতিটি গীর্জায় ৫০০ কেজি করে খয়রাতি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

bdwebhost24.com