ঠাকুরগাঁও সিমান্তে তার কাটার বেড়ায় বেঁচে আছে হাজারো মানুষের আকুতি

bdwebhost24.com
মো: আকতারুল ইসলাম আক্তারঃ তার কাটার এক পাশে বাবা আরেক পাশে আদরের কন্যা সন্তান মাঝ খানে তার কাটার বেড়া অনেক আকুতি মিনতি করেও এক পরশ বাবা ছুঁতে পারলো না কন্যাকে আর কন্যা ছুঁতে পারলে না বাবাকে।
কারণ বাবা আর আদরের ৮বছরের কন্যা সন্তানের মাঝে রয়েছে কয়েক ফুটের বিশাল তার কাটার বেড়াটির কারণে। বাবা জব্বার এসেছিলেন ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে আর মায়ের সাথে কন্যা সুরভী এসেছিলেন ঠাকুরগাও থেকে।
ঠিক এভাবেই পিতা সন্তানকে মেয়ে মাকে ভাই ভাইকে স্ত্রী স্বামীকে অথ্যাৎ দুই দেশের মধ্যে থাকা বিভিন্ন আত্বীয়স্বজনকে ছুঁতে না পারলেও এক নজর দেখার জন্য জড়ো হয়ে ভারত-বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল কোচল ও হরিপুর চাপসা সীমান্তে গতকাল শুক্রবার ভারত ও বাংলাদেশের ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
এ মিলনে শুধু বাধা হয়ে দাড়ায় তার কাটার বেড়াটা। কারণ এ বেড়ার কারনেই আত্বীয় স্বজনের দেখা হলেও কেউ কাউকে ইচ্ছা থাকাও সত্বেও ছুতে পারে না তার কাটার প্রায় ১০ ফিটের দুরত্বের বেড়াটির কারণে। প্রতি বছর পাথর কালীর মেলা বিজিবি ও বিএসএফের সম্মতিতে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই এই সাক্ষাতের সুযোগ হয়। কাঁটাতারের বেড়া তাদের আলাদা করে রাখলেও আবেগ পৌছে যায় সীমানা ডিঙ্গিয়ে।
কথা হয় পঞ্চগড়ের সালামের সাথে তিনি বলেন, ২১ বছর পর ছোট ভাইয়ের দেখা পেয়ে চোখে আনন্দ যেন বাধ মানছিল না ভাই সৌরভকে দেখে। সে থাকেন ভারতের জলপাইগুরি জেলার রায়গঞ্জ থানায়। অনেক দিন দেখা না হলেও আজ রক্তের টান ঠিকই তাদের হাজির করেছে কাঁটাতারের এপার উপারে।
বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর এবং ভারতে কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাই সাইকেল, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, মিনিবাস যোগে মেলা স্থলে হাজির হোন দুই দেশের মানুষেরা। এর পর চলে প্রতিক্ষার প্রহর। শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফের সম্মতিতে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলে এ মিলন মেলা।
সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এসে জড়ো হন সীমান্তে, দির্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবার এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কেউ। প্রতি বছর দু’দেশের স্বজনদের এ মিলন মেলা এখানে এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দেয়।
লাখো মানুষ কথা বলেছে এই দিনে তাদের প্রিয় স্বজনদের সাথে। দু’ দেশের সীমারেখা কাটাতার দিয়ে আলাদা করা হলেও আলাদা করা যায়নি তাদের ভালবাসার টান। দীর্ঘদিন দুরে থাকা, দেখা হওয়ায় অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আবার কেউ প্রিয়জনের দেখা না পেয়ে বাড়ি যেতে হয় চোখে পানি নিয়ে।
দু’দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সাধারণ মানুষ টাকা পয়সার অভাবে পাসপোর্ট ভিসা করতে পারেন না। তারা এই দিনটির অপেক্ষয় থাকে। সারা বছর দু দেশের মানুষ অপেক্ষা করে এই দিনটির জন্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই জানিয়ে দেয় স্বজনরা। কে কোথায় দেখা করবে। ভারতীয় অধিবাসীরা কাঁটাতারের পাশে এলে সেখানে বাংলাদেশের ও লাখো নারী পুরুষ সমবেত হয়।
জামাই হেদলু রাম ভারতীয় সীমান্তে ও শ্বাশুড়ী মুক্তিরাণী বাংলাদেশ সীমান্তে সঙ্গে নাতী নাতনি সবাই সবার সাথে কান্নাজড়িত কন্ঠে কথা বলছে। রানী বসাক বলেন, ৮ বছর পর জামাই ও মেয়ের দেখা পেলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা থাকলেও পারছিনা। বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। ইচ্ছে হচ্ছিল একটু ছুঁয়ে দেখার কিন্তু ছুতে পারছিলামনা। জড়িয়ে একটু চিৎকার করে কান্না করি তবে হয়তো দির্ঘদিনের জমে থাকা কষ্টগুলো থেকে একটু রেহাই পেতাম বলছিলেন ভারতের মাকড় হাট থাকা ছোট বোন রোজিনাকে দেখতে আসা দিনাজপুরের আবুল বাসার ।
পাথর কালীর মেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নগেন পাল জানান,কৃষকের ধান মাঠে থাকার কারনে এক সপ্তাহ পিছিয়ে এ মেলা করা হচ্ছে। ১৯৭৪ সালে পর উপজেলার সীমান্ত এলাকা পাক ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধিনে ছিল। এ কারনে দেশ বিভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দু’দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর কেউ কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করতে পারেন না। অপেক্ষা করে থাকে এই দিনটির জন্য।
bdwebhost24.com
শেয়ার