চালকের গলা কেটে ছিনতাই করা হয় ইজিবাইক, গ্রেফতার ৪

0
209

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চালককে গলা কেটে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক ও চালকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খরিতা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে খাদেমুল ইসলাম (২৭), পলাষট্টি গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম (১৯), একই গ্রামের বিশ্বনাথ মালির ছেলে চন্দন মালি (৩০) এবং রঘুনাথপুর গ্রামের মোখলেছুরের ছেলে মীর হোসেন (২৪)।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানান গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন এন্ড ফিন্যান্স) ইবনে মিজান।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয়দের খবরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঙ্গুরা গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে আবু রায়হান (২২) নামের এই ইজিবাইক চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫ টার দিকে আবু রায়হান মিলন নামের এই ইজিবাইক চালক ভাড়া খাটার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হয়। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য ইজিবাইক চালকের সাথে আড়াই শত টাকায় ভাড়া ঠিক করে এবং রওনা দেয়। পথে ইজিবাইকটি কামদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঙ্গুরা অধিবাসী পাড়ায় বাঁশ ঝাড়ে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা গামছা দিয়ে চালকের মুখ বাঁধে এবং রশি দিয়ে হাত-পা বাধার চেষ্টা করলে চালক ধস্তাধস্তি করে। এতে ছিনতাইকারী আসামিরা তাদের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে গলার নিচে, বাম পাঁজরে, ডান কাধে ও পেটে আঘাত করে ইজিবাইক চালক আবু রায়হান মিলনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে ছিনতাইকারীরা চালকের কাছে থাকা ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বের করে নিয়ে মরদেহ বাঁশঝাড়ে ফেলে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশি তদন্তে প্রথমে খাদেমুল ও চন্দন মালিকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে চালক রায়হানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে নাজমুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ হত্যায় জড়িত মীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে বাগদা বাজারের শাওন নামের এক যুবকের বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
-বিডীলাইভ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + eighteen =