‘স্যার, আমাকে কীভাবে গ্রেপ্তার করলেন? আমাকে তো গ্রেপ্তার করার কথা না।’- গ্রেপ্তারের সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদস্যদের হাতে অবাক হয়ে এমন প্রশ্ন করেন ফরিদপুরের আলোচিত ডন শরিফ খ্যাত শরীফুল ইসলাম (৩৮)। তার মতে, ‘ছোট একটা ভুলের’ কারণে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
র্যাব জানায়, অপরাধ জগতে তার এতটাই দক্ষতা যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করবে কখনো প্রত্যাশা করেননি এবং গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজেই অবাক হয়ে যান।
র্যাব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডন শরিফ বলেন, ‘আমার ছোট একটা ভুল হয়েছে। আরওয়ানফাইভ মোটরসাইকেল থাকলে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারতেন না, আপনাদের ওপর দিয়ে চালিয়ে চলে যেতাম।’
শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলকে গ্রেপ্তারের বর্ণনা দেন র্যাব-১০-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহম্মাদ কামরুজ্জামান।
এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব সদস্যরা। তিনি শহরের কবিরপুর এলাকার মৃত ফারুক শেখের ছেলে।
এছাড়া রায়হান মোল্যা (২৫) নামে তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দেড় কেজি গাঁজা ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল (র্যাবের ভাষ্য), সুইচ গিয়ার, ক্ষুর, কাঁচি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত আরওয়ানফাইভ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানায়, এটিও সম্প্রতি পাবনা জেলা থেকে ক্রয়ের নামে ট্রায়াল দেওয়ার সময় পালিয়ে নিয়ে আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ২১ অক্টোবর শহরের উত্তর শোভারামপুরে এক গৃহবধূকে পিস্তল ঠেকিয়ে কানের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার একটি সিসিটিভির ক্যামেরার দৃশ্যে ব্যাপক আলোচিত হয়। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হলে ছায়াতদন্ত শুরু করে র্যাব। তিনি বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন।
ডন শরীফুলের উত্থান যেভাবে:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছোটবেলা থেকেই শরীফুল অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০০৮ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পুলিশের খাতায় নাম আসে তার। এরপর থেকে তিনি অপরাধ জগতে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েন। মাদক কারবার, খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরির মতো অপরাধ কর্মকাণ্ডে বারবার নাম আসে তার। এসব ঘটনায় ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় আটটি মামলাসহ ১০টি মামলা রয়েছে তাঁর নামে। তিনি এ পর্যন্ত চারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।
র্যাবসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শহরের ঝিলটুলী এলাকায় ভোরে ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ নার্স অরুণিমা ভৌমিক। ওই দিন ভোরে ডিউটি শেষে রিকশায় বাসায় ফিরছিলেন অরুণিমা। তখন শরীফুলসহ দুজন ছিনতাইকারী তাঁর হাতে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ সময় অরুণিমা রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজের দৃশ্যে শরীফুলের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে তিনি আলোচনায় আসেন। ছিনতাই ও হত্যার ঘটনায় মামলা করা হলে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শরীফুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, অরুণিমা হত্যা মামলায় দুই বছরের মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আসেন শরীফুল। সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিনি আরেকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি আবার জামিনে বেরিয়ে দুই বছর ধরে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। শরীফুলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে থানায় হস্তান্তর করা হবে।




