গণভোটের জন্য নির্ধারিত চারটি বিষয়ের প্রশ্নকে জনগণের ওপর ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের জন্য চারটি বিষয়ের ওপর যে প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে তা জনগণের ওপর জবরদস্তিমূলক। জনগণকে জবরদস্তিমূলক বলা হচ্ছে আপনি হ্যাঁ অথবা না বলবেন।’
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনে কখনও আলোচনা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট অর্ডার একটি ইতিহাস। সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে এই অর্ডারে দেশ পরিচালিত হতো। এই আদেশের ব্যাপারে জুডিশিয়ারি বিভাগ বলতে পারবে। আইনি বৈধতা কতটুকু রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান বাস্তবায়ন আদেশের সঙ্গে জুলাই সনদের বহু গড়মিল রয়েছে। সনদে মনের মাধুরী মিশিয়ে অনেক কিছু সংযোজন করা হয়েছে। এতে জাতির মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে—এর দায় কি প্রধান উপদেষ্টা নেবেন?’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদের কপিতে নোট অব ডিসেন্টসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনা উল্লেখ রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা সেখানে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু সুপারিশমালায় সেসব নেই। তাহলে কি প্রধান উপদেষ্টা নিজের স্বাক্ষরকে লঙ্ঘন করলেন না?’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হবেন তারা কী করে সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন? সার্বভৌমত্বের এখতিয়ার সংসদ ও তার সদস্যদের। কিছু চাপিয়ে দেয়া এখতিয়ার বহির্ভূত। যেসব ধারণা উপস্থাপন করা হচ্ছে সেগুলো সাংঘর্ষিক।’
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার সংকট তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন সালাহউদ্দিন।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




