স্ত্রীকে হত্যার পর কাঁদতে কাঁদতে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী

0
174

উত্তর প্রদেশের কানপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন শচীন নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মহারাজপুর থানায় হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই যুবক এবং দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শকের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

শচীন পুলিশকে জানান, তিনি তার স্ত্রী শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং নিথর দেহটি কম্বলে মুড়িয়ে ঘরের ভেতর রেখে এসেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে ভুক্তভোগী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, শচীন ও শ্বেতা উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের অমতে প্রেম করে আদালতে বিয়ে করার পর তারা ঘর ছাড়েন এবং কিছুদিন সুরাটে থাকার পর কানপুরের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

সেখানে শচীন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে গত কিছুদিন ধরে স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে শচীনের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। বিশেষ করে শ্বেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শ্বেতা ওই অর্থ তার দাদির কাছ থেকে পেয়েছেন বলে দাবি করলেও শচীন তা বিশ্বাস করতেন না।

নিজের সন্দেহ যাচাই করতে শুক্রবার রাতে শচীন একটি কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে ব্যস্ত এবং রাতে বাড়ি ফিরবেন না। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ বাড়ি ফিরে তিনি শ্বেতাকে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে গল্প করতে দেখেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে দম্পতিকে বুঝিয়ে ও নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় এবং একপর্যায়ে শচীন রাগের মাথায় শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধবোধ থেকে শচীন শহরজুড়ে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে বেড়ান এবং একপর্যায়ে পালানোর কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পুলিশকে জানান যে, তারা একে অপরের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন এবং এখন শ্বেতা নেই বলে তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

পুলিশ শ্বেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে। ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়া এই দম্পতির এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 5 =