খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১২ ভোটকেন্দ্রের ১১টিই ঝুঁকিপূর্ণ

0
150

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১টিই ঝুকিঁপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব ভোটকেন্দ্রে যানবাহন করে যাওয়ার সুযোগ নেই; যেতে হবে পায়ে হেঁটে। এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে দুটিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠাতে পাঠাতে ব্যবহার করা হবে হেলিকপ্টার।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় মোট ভোটার রয়েছেন ২২ হাজার ৫৭৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১হাজার ২৯৪জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ২৮১ জন। এই উপজেলায় মোট ৩টি ইউনিয়ন রয়েছে। লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র পাঁচটি, দুল্যাতলী ইউনিয়নে তিনটি ও বর্মাছড়ি ইউনিয়নে চারটি কেন্দ্র রয়েছে।

কেন্দ্রগুলো হলো— লক্ষ্মীছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মংহলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যতিন্দ্র কারবারি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীছড়ি সরকারি কলেজ।

দুল্যাতলী ইউনিয়নে তিনটি ভোটকেন্দ্র হলো— দুল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জারুলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বর্মাছড়ি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র রয়েছে চারটি। সেগুলো হলো— বর্মাছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, কুতুপছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হলো লক্ষ্মীছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই দুটি কেন্দ্রে বিশেষ হেলিকপ্টারে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠাবে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। পাঁয়ে হেঁটে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথও নেই। ভোট গ্রহণের সঙ্গে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা ঝোপ-জঙ্গল, ঝিরি, উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

মংহলা পাড়া কেন্দ্রের ভোটার ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অংগ্য প্রু মারমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কে থাকে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় না। দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে এবার বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ রইলো।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে এসব এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বিজিবি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রকার ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না বলে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলো ঘিরে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুকনাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুত্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে আগের মতই পায়ে হেঁটে যেতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটার নিরাপদে ও স্বচ্ছন্দে এসব কেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seven − one =