জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন জনগণ মনে করে টেম্পারিং করে জামায়াত জোটকে হারানো হয়েছে

0
149

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচন ছিল একটি জরুরি বিষয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আমাদের দল আসন কম পেলেও ভোটের পার্সেন্টেজে আলহামদুলিল্লাহ অনেক এগিয়েছে। নির্বাচিত দল বিএনপি দুই শতাধিক আসন পেলেও ভোটের পার্সেন্টেজে আমরা মাত্র ২.৭% পিছিয়ে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা জেলার ফুলতলার আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে সত্য, কিন্তু নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক আগে থেকেই চলে আসছে আমাদের দেশে। আপনারা টেলিভিশনে দেখেছেন সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন আমাদের আমিরে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ইসিতে ৩২টি আসনের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়েছে। জনগণ মনে করে টেম্পারিং বা বিভিন্ন ম্যাকানিজম করে আমাদেরকে হারানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের পরের রাতেই গেজেট প্রকাশ করে জনগণের সে ধারণাকে আরও গভীর করে তুলেছে। তাই নির্বাচনের এ ফলাফলে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের দেশের একটা বাজে কালচার হলো নির্বাচনের পরে যারা পরাজিত হয়, তাদের ওপর জুলুম নির্যাতন করা। ভেবেছিলাম অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসবে সবাই। কিন্তু আমরা দেখলাম সারাদেশে আমাদের কর্মী, সমর্থকের ওপর হামলা, বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব বিষয়ে নজর দেবেন এবং ঘটনার ইতি টানবেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো থেমে যায়নি। শনিবার রাতেও মশিয়ালীতে আমাদের কর্মীর বাড়িতে আগুন দিয়েছে, ডুমুরিয়ায় কিছু ঘটনার সংবাদ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে পরিস্থিতি যদি বন্ধ না হয় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। তাই আমার দলের নেতাকর্মীদের শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থেকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যা দূর হবে ইনশাআল্লাহ।

ভোট পুনর্গণনার বিষয় টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, যে কোনো কাজের একটা সিস্টেম আছে। আমাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবর দরখাস্ত দিয়েছে। ডিসি মহোদয় ভোট গণনা করে দিলেই তো সবার জন্য ভালো হয়। কিন্তু আইনের কিছু বিষয় রয়েছে। যেহেতু তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে সেহেতু এখন আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদালতের রায় সাপেক্ষে গণনা হবে। তাতে কিছু লেট হতে পারে। এজন্য আপনারা বিচলিত হবেন না, ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন। তাছাড়া আপনারা ইসলামী আন্দোলনের কর্মী। আমাদের সকল কাজ হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সুতরাং আমরা ক্ষমতা গ্রহণ করলে যেমন উচ্ছ্বাসের কিছু নেই, তেমনি পরাজয়ে হতাশারও কোনো কারণ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − 8 =