বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুরের অভয়াশ্রম এলাকায় মৎস্য আহরণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

0
166

বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুরের ৫টি অভয়াশ্রম এলাকায় দুই মাসের জন্য সব ধরনের মৎস্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য বিভাগ। এই নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুরের ৫টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশ সহ সকল ধরনের মৎস্য আহরণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা ও জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই জুনাহার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে অভিযান পরিচালনা করবে নৌ-বাহিনী, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর। জাটকা ইলিশ পূর্ণাঙ্গ পরিণত করতে প্রতিবছরের দুই মাস মৎস্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকে এসব অভয়াশ্রমে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভয়াশ্রম এলাকায় মৎস্য আহরণ করলে দুই বছরের জেল ও আর্থিক জরিমানা করার বিধান রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাকালীন বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২১ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।

এর মধ্যে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

তবে বরিশালের জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সঠিক সময় খাদ্য সহায়তার চাল না পৌঁছালে বাধ্য হয়ে অনেক জেলে নদীতে মাছ শিকার করতে নামেন। অনেক প্রকৃত জেলে চাল ও জেলে কার্ড পাননি বলে অভিযোগ করেন। প্রকৃত জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও জেলে কার্ড বিতরণের দাবি জানান তারা।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডক্টর মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোরালোভাবে নিষেধাজ্ঞা চলবে। আইন অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় রাত ও দিনে পাহারার জন্য স্পিড বোট ও লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ এখানকার নদীসমূহের ১৯০ কিলোমিটার এলাকার দুটি অভায়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার বন্ধ থাকবে। এতে করে জাটকা ইলিশ রক্ষাসহ অনান্য সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এজন্য মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজার, জেলে পল্লী, মাছ ঘাট ও মৎস্য আড়তগুলোতে জেলেদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ সচেতনতা সভা অব্যহত থাকবে।

জেলেরা জানান, রোজার মধ্যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালীন তাদেরকে সঠিকভাবে সহায়তা দেওয়া না হলে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে কষ্ট ভোগ করতে হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বরিশাল বিভাগের অভয়াশ্রমগুলো নিরাপদ রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 3 =