ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রচণ্ড ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ৪২ ঘণ্টা পার হলেও পুরোপুরি সচল করতে পারেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ।
তবে ঝড়ের পর থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক লাইন সচল করতে কাজ চলছিল বলে জানা গেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ময়মনসিংহ-৩-এর হালুয়াঘাট জোনাল কার্যালয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে ঝড়ে উপজেলার ৩৩ কেভি মূল লাইনের তিনটি পয়েন্টে তিনটি খুঁটি ভেঙে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৫টি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের পর থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে কাজ শুরু করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
আজ বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে জুগলি, ভূবনকুড়া, গাজীরভিটা, কৈচাপুর, নড়াইল, ধুরাইল, আমতৈল ও স্বদেশী ধারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে আংশিক সচল হয়। তবে শাকুয়াই ও বিলডোরা ইউনিয়নের কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ সচল করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। টানা দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় অনলাইন যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় তরুণ জুয়েল খান জানান, দুই দিন বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট বন্ধ হয়ে গেছে। পরে তার উদ্যোগে ভাড়ায় জেনারেটর এনে জনপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেনারেটরে চার্জ দেওয়া হচ্ছে মোবাইল ফোন। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিলডোরা এলাকার মোফাজ্জল বলেন, ‘কী কয়য়াম ভাই, আমরার দুঃখ কেউ দেহে না। দুই দিন ধইরা বিদ্যুৎ নাই। রোজা-রমজানের দিন সেহরিতে মোমববাতি জ্বলাইয়া খুব কষ্ট কইরা রান্না করতে অইতেছে।’
বিদ্যুৎ কবে নাগাদ সচল হবে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ময়মনসিংহ-৩-এর জোনালের ডিজিএম মো. মাহমুদুল হাসান মুন্না বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সচল করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে সব ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পারব।’




