Close

কুমিল্লার মতো থাকতে চায় সিলেটও

বিপিএলের সপ্তম আসরের সব দলের মালিক হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পরিবর্তন হয়ে এই আসর মাঠে গড়াবে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ নামে। দুদিন আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন। বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বিশেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক নাফিসা কামাল এমন সিদ্ধান্তে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছেন। দুই দফা সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গতকাল সকালে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএলের বাইরে আমরা থাকবো, এটা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি যে পরিবারে বেড়ে উঠেছি সেখানে বঙ্গবন্ধুর চেতনা কিভাবে কাজ করে তা আপনারা জানেন। তাই এই আসরের বাইরে থাকবো এটা কল্পনাও করিনি। আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) বলেছি, এবার আমাদের যত দাবি দাওয়া আছে তা যেন ভুলে যাই, বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা যাবো। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, আমাদের এখানে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের যেটা নিয়ে কথা হচ্ছিল, যে বিষয়ে আলোচনা অসমাপ্ত ছিল, হুট করে আমাদের বাতিল করে দেয়া হলো। আমরা আশা করি যে আমাদের বিষয়টা পুনরায় বিবেচনা করা হবে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সমর্থন দেবো। আমরা এটার অংশীদার হতে চাই।’
অন্যদিকে সিলেট সিক্সার্সের সিইও ইয়াসির ওবায়েদও দৈনিক মানবজমিনকে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বিসিবির আলোচনা হচ্ছিল। তারা বলেছিল যে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আমরা একটি টিম, আমাদের মাঠের খেলাই আসল। না খেলার কথাতো ভাবতেই পারি না। আশা করি বিসিবি দ্রুত আমাদের জানাবে। আমরা আশায় আছি তারা আমাদের খেলার সুযোগ দিবে। হ্যা, আলোচনা তারা যদি আবার করতে চায় করবো। তারা আমাদের জানাক যে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।’ মূলত বিপিএলের দলগুলোর বেশ কিছু দাবি দাওয়া বিসিবি মানতে পারছে না বলেই জানিয়েছেন নাজমুল হাসান। তাই তারা এবারের আসরের আয়োজন করতে চান একেবারেই নিজেরা। তিনি বলেছেন, ‘এবারের বিপিএলটা আমরা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করবো। টুর্নামেন্টের নামকরণ হবে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’। সব দলই ঠিক থাকবে, শুধু ম্যানেজমেন্টের অংশ বিসিবি দেখবে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত সবই বিসিবি তত্তাবধান করবে। এতে আশা করি সবাই খুশি হবে। অনেকটা বিগ ব্যাশের মতো।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কর্ণধার নাফিসা কামাল অবশ্য বেশ আবেগী বক্তব্য রেখেছেন বিপিএল নিয়ে। কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদেও ফেলেন। তার এ আবেগের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি ছয় বছর বিপিএলের সঙ্গে জড়িত। আমার মনে হয় সবচেয়ে সিনিয়র মালিক আমি এখানে। দুইটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক, দুটি শিরোপা আছে আমার। বিপিএলে আমাদের দলের কিছুটা হলেও অবদান রয়েছে। যে নিয়ম চালু করা হয়েছে এবং আমরা যখন জানলাম যে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি এবার নেই, এখানে আমাদের কিছু হলেও কষ্টের জায়গা আছে। আমরা বিসিবি এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে সভা করেছি, কিছু দাবি ছিল আমাদের। শুধু ক্রিকেটের জন্যই, ফ্র্যাঞ্চাইজি লাভের জন্য না। এক নম্বর রেভিনিউ শেয়ারিং। অন্যান্য টুর্নামেন্ট দেখলে লভ্যাংশ শেয়ারিং সব জায়গায়ই আছে, শুধু বিপিএলে নাই। এসব কিছু উন্নতি হলে ভালো হয়; তাহলে আমাদের চিন্তা করার জায়গা আসে। কিন্তু আমরা ওই জায়গা পাই নাই।
সাইনিং করার ক্ষেত্রে তিনটা প্লেয়ার বাইরে থেকে নেয়া যাবে, আর লোকাল প্লেয়ারদের ক্ষেত্রে সব অকশন থেকে নেয়া হবে। কিন্তু আমাদের কথা ছিল এমন হলে লোকাল প্লেয়ারদের জন্য বায়াসড হয়ে যায়। বাইরে থেকে প্লেয়ার কিনলে অনেক বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় এটা সত্যি কথা। কারণ ওদের নেগোসিয়েশনের জায়গা থাকে। যেটা লোকাল প্লেয়ারদের সঙ্গে হয় না। যে কারণে আইকন ছাড়া লোকাল প্লেয়াররা আমাদের কাছে সঠিক মূল্যে আসছে না, এটা আমাদের কাছে মনে হয়।’
নাফিসা কামাল আশা প্রকাশ করেন বিপিএলে অংশ নেয়ার বিষয়ে। শুধু তাই নয়, এজন্য ছাড়া দিতেও রাজি আছেন। সেই সঙ্গে আশা করেন যৌক্তিক দাবি বিসিবি মেনে নিলে সবার জন্য উপকার হয়। আর জানতেও চান কেন দাবিগুলো মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা শতভাগ ভোকাল পয়েন্ট। আমি অনেক জোর গলায় বলতে পারি কুমিল্লার মানুষের প্রতি আমার অনেক দায়বদ্ধতা কাজ করে। তারা যে আমাদের কথা মানছে না সেটা তো জানাতে হবে। আমরা বিপিএলের বাইরে কিভাবে থাকি? ছয়টা বছর বিপিএলের সঙ্গে ছিলাম। সামনে ঠিক হবে এটা শুনে চলতে হবে আরকি। আমাদের ব্যাপারটা পুনরায় বিবেচনা করা হোক। ওরা বলেছে আমরা যে মডেল চেয়েছি সেটা তাদের বর্তমান মডেলের সঙ্গে সংঘর্ষপূর্ণ। এজন্য তারা মানতে পারছে না। এটা আপনাদের জানানোর আগে আমাদের তো জানাবে? এবার যে বিপিএল হচ্ছে সেটা কোন মডেলে? সেটা কি কারেন্ট মডেল? এখন এটা হয়ে গেছে বিগব্যাশের মডেল। এটা এখন নতুন আরেকটি মডেল। মডেল বারবার পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু।’

Facebook Comments
scroll to top