ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গৃহকর্তা আটক

0
375

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কিশোরী গৃহকর্মীর ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দেড় বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে মৌলভীবাজারের জগৎ সী গ্রাম থেকে চন্দন ধরকে আটক করেছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার জেলার জৎগসি এলাকার সূত্র ধরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চন্দনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এর আগে চন্দন ধরের মা সাধনা ধর (৬০) এবং স্ত্রী পূর্ণা ধরকে (৩০) আটক করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ধর্ষণের শিকার গৃহকর্মী নিজেই বাদী হয়ে তিন জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নম্বর-১৯, তারিখ-১৬.০৪.২২।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পৌর শহরের স্টেশন রোডের হিরম্ময় প্লাজার তৃতীয় তলার চন্দন ধরের বাসা থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরী বাসা শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের শহরতলীর শাহীবাগ এলাকার বলে জানায় পুলিশ।
গৃহকর্মীর অভিযোগ, গত দেড় বছর আগে শহরের স্টেশন রোডের হিরম্ময় প্লাজার তিন তলার বাসিন্দা ‘অরেঞ্জ ফ্যাশন’র মালিক চন্দন ধরের (৪৫) বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেয় সে। কাজে যোগ দেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় চন্দন ধর তাকে ধর্ষণ করে। এই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত দেড় বছর ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। এসব জানার পরও তার বাসার লোকজন চন্দনকে বাধা দেয়নি। শনিবার সকালে চন্দন ধর তাকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এতে চন্দন শারীরিক নির্যাতন করে তার হাত-পা বেঁধে একটি রুমে ফেলে রাখে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার মেয়েটির চিৎকার শুনে তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। নির্যাতিত কিশোরীকে আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্ষক চন্দনের বাসার গৃহিণী সাধনা ধর (৬০) পূর্ণা ধর ও (৩০) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। ওই সময় গৃহকর্তা চন্দন ধর পালিয়ে যায়। এছাড়া মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার কিশোরী বাদী হয়ে চন্দন ধরসহ তিন জনকে আসামি করে মামলার দায়ের করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four − 3 =