মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা নিতে গেলে ফার্মাসিস্টকে টাকা দিতে হয় এবং ওষুধ চাইলে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি।
রোগীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ফার্মাসিস্টকে ঘিরে রোগীদের তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চন মিয়া জানান, গ্যাস্টিকের ওষুধ নিতে এসে দেখি ট্যাবলেটের মেয়াদ গত সেপ্টেম্বরেই শেষ। এমনকি কিছু ওষুধের তারিখ কেচি দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে বা আত্মীয়দের মাঝে বিতরণ করা হতে পারে।
রোগী বিভা দত্ত (৯০), রাজিয়া খাতুন (৬৫), হানিফ আলী (৫৫) ও সুমনের স্ত্রী জানান, তাদেরও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
আরেক নারী কেয়া আক্তার জানান, দুই সপ্তাহ আগে এখান থেকে গ্যাস্টিকের ওষুধ নিয়েছিলাম। আজ খবর পেয়ে দেখে দেখি, ওই ওষুধের মেয়াদ দুই মাস আগেই শেষ।
এছাড়া বিউটি আক্তার নামের এক নারী অভিযোগ করেন, আমার নাতিকে চিকিৎসা করাতে গেলে ফার্মাসিস্ট ৫০ টাকা নিয়েছেন। অথচ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও ওষুধ ফ্রি থাকার কথা।
স্থানীয়রা জানান, ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস গত ২৬ বছর ধরে একই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। তিনি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না, তবুও দীর্ঘদিন ধরে এখানেই আছেন এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ স্বীকার করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কার্টুন সহ ওষুধ নিয়ে আসি। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিলে সেখান থেকে দিয়েছে, সেখানেতো কার্টুন খুলে দেখা হয় না। হয়তো একটি বক্স-এ ভুল বশত মেয়াদের তারিখ কাটা হয়েছে। আমি ২৬ বছর ধরে এখানেই আছি। এ পর্যন্ত কেউ বলেনি। এখানে পিয়ন পর্যন্ত নেই, মেডিক্যাল অফিসার নেই। আমি এবং সেকমো দুজনই সব কিছু করে থাকি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আফসান রেজা বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া হয় না। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের যদি আপনার কাছে কোনো ছবি থাকে তাহলে আমার হোয়াটসঅ্যাটে পাঠান। তবে অল্প সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ হয়, তাহলে কোনো সাইড ইফেক্ট হবে না, হয়তো কোনো কাজ করবে না। তবে লম্বা সময় যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তাহলে ও বমি, পাতলা-পায়খানা ও ডায়রিয়া হতে পারে।




