যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন দিতে চাওয়া ইরানিদের এক ব্যতিক্রমী ও জমজমাট গণবিয়ের, মেশিনগান নিয়ে হাজির বর-কনে!

0
136

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমী ও জমজমাট গণবিয়ের। তবে এই বিয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক ভিন্ন রকম জাতীয়তাবাদী উদ্দেশ্য। বিয়েতে অংশ নেওয়া শত শত বর-কনে আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে দেশের তরুণ সমাজের মনোবল বাড়াতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার (১৮ মে) রাতে এই গণবিয়ের বিশেষ আয়োজন করা হয়।

রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শত শত যুগল অংশ নেন, যার মধ্যে কেবল ইমাম হোসেন স্কয়ারেই শতাধিক নারী-পুরুষের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ইরান সরকারের এই বিশেষ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জানফাদা’, যার বাংলা অর্থ ‘আত্মোৎসর্গ’। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া ইরানিরা যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে যুদ্ধ করতে এবং জীবন দিতে প্রস্তুত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে এই তরুণেরা সেই কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে নিজেদের আত্মনিয়োগ করবেন।ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই জাতীয়তাবাদী কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দেশটির লাখ লাখ মানুষ যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশের অভ্যন্তরে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে প্রায় প্রতিদিনই এমন বড় বড় সরকারপন্থী সমাবেশের আয়োজন করছে।

গতকাল রাতের বিয়ের আয়োজনটি ছিল বেশ চমকপ্রদ। ইমাম হোসেন স্কয়ারে বর-কনেরা সাধারণ কোনো গাড়িতে নয়, বরং সামরিক বাহিনীর মেশিনগানবাহী জিপ গাড়িতে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। তবে যুদ্ধ আবহ থাকলেও বিয়ের মূল মঞ্চটি বেলুন দিয়ে বেশ আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছিল। কনের পোশাক পরা এক তরুণী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, “নিশ্চিতভাবে দেশ এখন যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, তবে এর মধ্যেও তরুণ-তরুণীদের বিয়ের অধিকার রয়েছে।” দেশের প্রতি ভালোবাসা আর নতুন জীবনের সূচনা—সব মিলিয়ে তেহরানের এই আয়োজন এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty − 14 =