সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেনন গ্রেপ্তার

0
3

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর বুধবার এ আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত দুদকের আবেদন মঞ্জুর করে রাশেদ খান মেননকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান গত ৩০ জুন মেননকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী।দুদকের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বপরিচিত ১৩ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিধিমালা অনুযায়ী ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বিশেষ গভর্নিং কমিটি অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে। ওই বোর্ডে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এনটিআরসিএ সনদ বাধ্যতামূলক থাকলেও তা ছাড়াই প্রার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া এক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলটির সাবেক অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সাবেক সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর হোসেন, গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মাহবুব উর রহমান, মো. আবুল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন, জহিরুল ইসলাম খান, শ্যামলী হোসেন, মাহমুদা সুলতানা, আয়শা সিদ্দিকা, নাসরিন আফরোজ, মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, তুহিন বিশ্বাস, মো. বজলুর রহমান, মো. রাসেল, মো. হারুন-অর-রশিদ খান, মো. মোশারফ হোসেন, উৎপল বিশ্বাস, এ কে এম মাসুদ রানা এবং মো. আরিফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। জুলাই আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলাতেও তার বিচার চলছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

one × one =