আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো আজ সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে হিমালয়কন্যা নেপাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত বছরের তীব্র আন্দোলনের পর দেশটির জনগণ এবার নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে নেপালজুড়ে। সহিংস সেই আন্দোলনে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা অলির সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। এরপরই নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হয়।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ গঠন করা হবে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এবং বাকি ১১০ জন দলীয় অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোটে তরুণ নেতৃত্ব ও পুরনো রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্ম দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি চাইছে।
নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই নির্বাচনকে ঘিরে গভীর আগ্রহ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, এ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে নেপালের আগামী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এবারের নির্বাচন নেপালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে নতুন সরকার।




