ব্রয়লারের প্রতি কেজি আবারও ২০০ টাকা ছুঁয়েছে

0
169

রমজান মাসের মাঝামাঝিতে এসে রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম আবারও ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। মুরগির পাশাপাশি চিনি, পোলাওয়ের চাল ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম বাড়লেও লেবু, শসা ও বেগুনের মতো ইফতারি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০–১৭০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগি মানভেদে ৩০০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০-৩০০ টাকা।

বিক্রেতাদের মতে, শীতে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ সংকট এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাই এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ। তবে ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়।

চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেশি। পাইকারিতে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। পোলাওয়ের চাল বা চিনিগুঁড়া চালের দামও লাফিয়ে বাড়ছে। ব্র্যান্ডভেদে খোলা চিনিগুঁড়া চাল ১৪০-১৫০ টাকা এবং মোড়কজাত চাল ১৭৫-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ৫০-৬০ টাকা কম ছিল। তবে সাধারণ চালের দাম গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল।

আসন্ন ঈদ সামনে রেখে মসলার বাজারেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। আলুবোখারার দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৪০ টাকা এবং কাঠ ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় ডিলাররা মাত্র ২০-৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ করছেন।

তবে স্বস্তির খবর মিলেছে সবজি বাজারে। রোজার শুরুতে চড়া দামে বিক্রি হওয়া লেবু এখন হালিপ্রতি ৪০–৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ১০০ টাকার ওপরে ছিল। শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে যথাক্রমে ৮০–১০০ টাকা, ৬০-৮০ টাকা ও ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা কমে এখন ৪০-৪৫ টাকায় নেমেছে।

বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে মুরগিই ছিল ভরসা, কিন্তু বারবার দাম বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 3 =