শিকড় হারিয়ে নিঃস্ব, বিষখালী নদী দখল‐দূষণমুক্তের দাবি পাথরঘাটার ভুক্তভোগীরা

0
167

বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে শিকড় হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে নদী পাড়ের হাজারো পরিবার। বসতবাড়ি-জমি-জীবিকা হারিয়ে পথে বসতে হয়েছে অনেককে। ‘যত স্রোত তত ভাঙন’—বিষখালী নদী সংলগ্ন বাসিন্দাদের ভাঙা কপালের এমনটাই যেন প্রতিদিনকার চিত্র। নদীকে দখল ও দূষণ থেকে মুক্ত করা এবং ভাঙন ঠেকাতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

‘নদী বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’—স্লোগানকে ধারণ করে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’-এর আয়োজনে শনিবার (১৪ মার্চ) পাথরঘাটার সদর ইউনিয়নের বিষখালী নদী সংলগ্ন জিনতলায় স্থানীয় বাসিন্দারা নদী ভাঙনের বেদনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নদী দখল-দূষণমুক্তসহ ভাঙন রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের দাবিতে বিষখালী নদীর তীরে অবস্থান নেন সংগঠনটির সদস্য ও স্থানীয়রা।এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার, হেমায়েত হোসেন, বেলায়েত মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. শাহিন মিয়া, আব্দুল জব্বার, সোহরাব হোসেন, নুর আলম, ইদ্রিস তালুকদার, ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল কাদের মিয়া তাদের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার বেদনার গল্প তুলে ধরেন।

তারা বলেন, বাপ দাদার ভিটামাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা বছরের পর বছর ধরে নিঃস্ব এবং ভূমিহীন অবস্থায় আছি। প্রতিদিনই জোয়ারের সময় বিষখালী নদীর পাড় ভেঙে যায়। কোনো না কোনো বসতভিটা ভেঙে নদীতে বিলীন হওয়া এখন প্রতিদিনকার ঘটনা। নদীর পাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন, অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি করেন তারা। বিষখালী নদী যেমন জীবিকার উৎস, তেমনি এ নদীই তাদের নিঃস্ব করে বলেও মনে করেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সংগঠনের পাথরঘাটা উপজেলার সমন্বয়কারী শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, নদীতেই উপকূলের মানুষের বসবাস, নদীতেই তাদের জীবিকা। ভাঙা গড়ার খেলা জেনেও এখানে বসবাস করতে হচ্ছে উপকূলবাসিদের।

তিনি আরও জানান, প্রতিবছরই কমবেশি জমিজমা-বসতবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। উপকূল রক্ষায় শুধু সরকার নয়, সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 4 =