শেরপুরের নালিতাবাড়ী ইউএনও কার্যালয়ের সামনে থালা-চামচ বাজিয়ে শব্দদূষণের প্রতিবাদ

0
2

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন এক কলেজ শিক্ষক। শব্দ দূষণের কারণে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তার প্রতীকী প্রকাশ হিসেবেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে হাতে থালা ও চামচ নিয়ে শব্দ তৈরি করে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করেন তিনি।

প্রতিবাদকারী শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান উপজেলার হাজী নুরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে একাই কর্মসূচি পালন করলেও পরে তার প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন স্থানীয় পথচারী, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পথচারী আবজাল হোসেন বলেন, ‘উনার এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। শব্দ দূষণে আমরা প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছি। আমি এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল মমিন বলেন, ‘বর্তমানে অতিরিক্ত শব্দের কারণে দোকানে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় ক্রেতাদের কথাও ঠিকমতো শোনা যায় না। তাই এই প্রতিবাদের সঙ্গে আমিও একমত।’

প্রতিবাদকারী শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান বলেন,

‘চলমান এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে, খৎনা ও নানা অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও ডিজে সাউন্ডবক্স বাজানো হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেও কোনো ফল পাইনি। তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতীকীভাবে এই কর্মসূচি পালন করেছি।’

কর্মসূচি শেষে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে শব্দ দূষণ রোধে ৬ দফা সুপারিশ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি নালিতাবাড়ী ইউএনও কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

স্মারকলিপিতে রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘সাইলেন্স জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা, ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

এদিকে, শিক্ষকের এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও নাগরিক শান্তি রক্ষায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কর্মসূচি শেষে নুরুজ্জামান ইউএনওর কাছে শব্দদূষণ রোধে ছয় দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেন। এতে রাত ১০টার পর উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো বন্ধ, আবাসিক এলাকাকে ‘সাইলেন্স জোন’ ঘোষণা, ডেকোরেটর ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. আবদুল মালেক গণমাধ্যমকে বলেন, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 5 =