মন্দিরে যাওয়ার নাটক সাজিয়ে প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে হত্যা মোট চারজনকে গ্রেপ্তার

0
1

অমাবস্যা উপলক্ষে স্বামীর সঙ্গে মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার নাটক করে নিজের প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করানোর অভিযোগে এক তরুণী ও তার প্রেমিকসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে যে নিহত যুবকের নাম রমেশ, যার বয়স তেইশ বছর এবং তিনি তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার সুলাগিরি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি হোসুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের শান্তিপুরামের ১৯ বছর বয়সী তরুণী হাসিনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি ছোট কন্যাসন্তানও রয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী মনে হলেও হাসিনি বিয়ের পরও তার ছোটবেলার বন্ধু ২০ বছর বয়সী যুগন্ধরের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং তারা দুজনে মিলে রমেশকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই নিখুঁত নীল নকশা তৈরি করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী অমাবস্যার সুযোগ নিয়ে হাসিনি তার স্বামী রমেশকে গুডুপাল্লে মণ্ডলের মল্লপ্পা কোন্ডা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শ্রী মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে যাওয়ার জন্য রাজি করান। মোটরসাইকেলে করে স্বামী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে রওনা হওয়ার পর হাসিনি পুরো পথেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার প্রেমিক যুগন্ধরের কাছে তাদের লাইভ লোকেশন পাঠাতে থাকেন, যাতে হত্যাকারীরা সহজেই তাদের অবস্থান ট্র্যাক করে পিছু নিতে পারে।

পাহাড়ি সড়কের তিন নম্বর হেয়ারপিন বাঁকের কাছাকাছি পৌঁছালে হাসিনি চক্রান্তের অংশ হিসেবে নিজের হাতব্যাগটি ইচ্ছা করে নিচে ফেলে দেন। ব্যাগটি কুড়িয়ে নিতে রমেশ মোটরসাইকেল থামানোমাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা যুগন্ধর ও তার সহযোগীরা অতর্কিতে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকেরা রমেশকে তাড়া করে রাস্তা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শিশুকন্যার সামনেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর হাসিনি ও তার শিশুকন্যা বাড়ি ফিরে না আসায় হাসিনির মা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। মন্দির পথের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায় যে রমেশ তার স্ত্রীকে নিয়ে মন্দিরে গেলেও পরবর্তীতে ওই তরুণী তার স্বামীর মোটরসাইকেলে চড়ে অন্য দুজন অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে ওই এলাকা ত্যাগ করছেন।

এই সূত্র ধরে পুলিশ হাসিনির মোবাইল ফোন রেকর্ড ও লোকেশন যাচাই করে রমেশের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে এবং মূল অভিযুক্ত হাসিনি, তার প্রেমিক যুগন্ধর এবং অন্য দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − three =