ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি, কর্মবিরতি অব্যাহত

0
271

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি প্রশাসনের অনুরোধ সত্ত্বেও প্রত্যাহার করা হয়নি।

হামলার ঘটনা তদন্তে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক। চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি থাকলেও মিড-লেভেলের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে নিয়ে তার স্বজনরা ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান।

ঘটনার পর পুলিশ নারীসহ তিনজনকে আটক করে। আটকরা সবাই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। তারা হলেন—সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং ছাতক থানার দৌলতপুর গ্রামের জাবেদ মিয়া (৩০)।
এদিকে, রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই এক বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে একজন নারী চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক ও উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণাও দেন তারা। শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়।

কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়িত হলে যে কোনো সময় কাজে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে।

আন্দোলনরত আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, ‘হাসপাতালে সেবা দিতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যা অনেক রোগী মানেন না। নারী চিকিৎসকের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বলেন, নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। আলাদা চিকিৎসক স্কোয়াড গঠন করে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন আছে। হামলার পরপরই নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক হলেও রোগীদের সেবা চলমান রয়েছে। নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, ৯শ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন, ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 3 =