চাঁদাবাজের ভয়ে যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে

0
127

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর তীররক্ষা কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে তীররক্ষা বাঁধের ঠিকাদার দাবি করেছেন, ‘বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবি করেছেন স্থানীয় একটি চক্র। মূলত চাঁদাবাজদের ভয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও নদী ভাঙনের শিকার পরিবারের সঙ্গে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কথা বলে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকাতে নদীর তীর রক্ষা ও ভাঙন এলাকায় জিও বস্তা ফেলার কাজ শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ কাজটিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। এই পরিস্থিতিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর ৫দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যান ঠিকাদার ও শ্রমিকরা। এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি।

কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তা এনামুল হক জানিয়েছেন, বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকের দহ ইউনিয়নের পাকরুলে নদী তীর সংরক্ষণ ও ভাঙন প্রতিরোধে ৫০ মিটার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, ৪৮ লাখ টাকা দরে কাজটি পায় মোল্লা ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাজ পাওয়ার পর আমরা তাকে সাইট বুঝিয়ে দিয়েছে। কি কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে তার জানি না।

তাছাড়া এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।নদী তীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার টাঙ্গাইল জেলার মোল্লা ট্রেডার্সের সৈকত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কারণে কাজ করতে পারি না, সাইট বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও কাজ বন্ধ রেখেছি। এতে কাজ না করলে আমার যেমন ক্ষতি পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হবে।

কারা চাঁদাদাবি করেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি চাঁদাবাজদের নাম প্রকাশে অনাগ্রহের কথা জানান এবং বলেন, ‘আমির এর বেশি কথা বলতে পারবো না।

গাইবান্ধায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির নেতাসহ তিনজন কারাগারেগাইবান্ধায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির নেতাসহ তিনজন কারাগারে
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কেউ যোগাযোগ বা কোনো সাহায্য চায়নি। বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম।

উল্লেখ্য, মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকের দহ ইউনিয়নের পাকরুল গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামে তিন কিলোমিটার জুড়ে চার বছর ধরে ক্রমাগত নদী ভাঙনের ফলে কয়েক হাজার বাড়িঘর, চারশ বিঘা আবাদী জমি, স্কুল, মসজিদ, প্রাচীন বৃক্ষরাজি, মাদ্রাসা, তিনটি আশ্রায়ণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, কবরস্থান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহারা হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করলেও যমুনা ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × five =