প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলে নারী, বুকসমান পানি পেরিয়ে স্ট্রেচারে কাঁধে বহন করে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেন

0
1

চারদিকে থইথই পানি, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। এই অবস্থায় প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন এক নারী। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে আটকে থাকা এক প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় না দেখে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে। পরে বুকসমান পানি পেরিয়ে স্ট্রেচারে কাঁধে বহন করে ওই প্রসূতিকে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূর নাম মিজবাহুল জান্নাত (২২)। তিনি ওই এলাকার সৌদি আরবপ্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী। খৈয়ারকুল গ্রামটি ডলু নদের তীরে। গত কয়েক দিনের অতি ভারী বৃষ্টিতে ডলু নদের পানিতে গ্রামটি প্লাবিত হয়েছে।

প্রসূতির পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার (গতকাল) দিবাগত রাত ২টার দিকে মিজবাহুল জান্নাতের প্রসব বেদনা শুরু হয়। তার বাড়ি থেকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু ভারী বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে পুরো সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। গলাসমান পানি পেরিয়ে উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারে করে মিজবাহুল জান্নাতকে কাঁধে বহন করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা স্ট্রেচারে করে গৃহবধূকে নিরাপদে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। ি

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘খবর পাওয়ার পর আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্টেশনে আগে থেকেই একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা ছিল। স্টেশন থেকে তার শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার। পুরো পথই পানির নিচে ছিল। আমরা তাকে স্ট্রেচারে কাঁধে বহন করে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠাই।’

উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডলু, সাঙ্গু ও টঙ্কাবতীর পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাতকানিয়া অংশে সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডলু নদ ও টঙ্কাবতী নদীর পানিও আগে থেকেই বিপৎসীমার ওপর রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + 7 =