সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

0
159

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কারিগরি ও জটিল হওয়ায় ধাপে ধাপে হিসাব-নিকাশ করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় প্রথমে আছেন আমানতকারীরা। এই ব্যাংকগুলোকে ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন দেওয়া হচ্ছে? কারণ প্রথমে আমানতকারীরা সবাই তাদের টাকা ফেরত পাবেন। এরপর শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি দেখা হবে।’

শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি পুরোপুরি টেকনিক্যাল। ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) নেতিবাচক হয়ে গেছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তোলেন, যারা শেয়ার কিনেছেন তারা তো ব্যাংকের মালিক, তাদের কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? কিন্তু আমি বলেছি, তারা হয়তো বাজারের ইতিবাচক সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছিলেন। তাই তাদের বিষয়টি দেখা দরকার এবং কতটুকু কী করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য মডেল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে তার একটি মডেল তৈরি করতে সময় লাগবে। ধরুন, কেউ অনেক টাকার শেয়ার কিনেছেন, তাকে হয়তো আংশিক শেয়ার দেওয়া হতে পারে অথবা বাকিটুকু অন্য কোনো উপায়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। পুরো বোঝা তো শেয়ারহোল্ডাররা বইতে পারেন না। এ বিষয়ে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শুধু এককালীন কোনো সিদ্ধান্তে এই খাতের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।’

দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে ব্যাংক-নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে হবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন টেকসই হয় না।’

আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাংক খাতের সংস্কার ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে, পরবর্তী সরকার যদি সেগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়, তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 4 =