সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে ‘সমঝোতা’ বলা অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার শামিল: তাসনিম জারা

0
183

সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে বর্ণনা করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মন্ত্রী যেটিকে সমঝোতা বলছেন, বাস্তবে তা চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ পদ্ধতি। নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। এ ধরনের অনিয়মকে ‘সমঝোতা’ হিসেবে তুলে ধরা হলে তা কার্যত অবৈধ লেনদেনকে বৈধতার ভাষা দেওয়ার শামিল।

এর আগে একই দিন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, তিনি এটিকে চাঁদা হিসেবে দেখেন না। মালিক ও শ্রমিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে যে অর্থ সংগ্রহ করে তা তাদের কল্যাণে ব্যয় হয় এবং এটি অনেকটা অলিখিত বিধির মতো। কাউকে জোর করে টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটিকেই তিনি চাঁদা হিসেবে বিবেচনা করেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ডা. তাসনিম জারা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সড়কে আদায় করা এই অর্থের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের অতিরিক্ত খরচের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ে, যার চূড়ান্ত চাপ বহন করতে হয় যাত্রী ও ভোক্তাদের।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে আধিপত্য বদলায়—এতে কি ধরে নিতে হবে যে এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক রয়েছে? বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাধান হিসেবে ডা. জারা বলেন, যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অথবা বার্ষিক নিবন্ধন ফি’র সঙ্গে যুক্ত করে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব দেন তিনি।

পাশাপাশি সড়ক থেকে আদায় হওয়া বিপুল অর্থের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা প্রকৃতপক্ষে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ শ্রমিক-চালকদের জন্য, নাকি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে—তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের দায়িত্ব। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা জনমনে হতাশা তৈরি করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + eight =