খালাস পেয়ে আরিফুল হক ও বাবর বললেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি আমরা।, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’

0
1

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস পাওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এই মামলায় আসামি করেছিল। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে আমাদের নাম ঢুকানো হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি আমরা। আজ রায়ে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

তবে এই মামলায় সৈয়দ নাইম আহমদ ওরফে নিমু (৪৫) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নাইমের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া লম্বাহাটি গ্রামে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন আমি কারাবন্দি ছিলাম।। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যান করেছিল তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আর আমরা খালাস পেয়েছি। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

একই প্রতিক্রিয়া জানালেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছ। তিনি বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’

সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে হাজির হন। দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক রায় দেন।

খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- মুহিব উল্লা ওরফে মফিজুর রহমান (মফিজ), মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল (মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা), আবদুল মাজেদ বাট (ইউসুফ বাট), নাজিউর রহমান ওরফে নাজমুল হক নাজু এবং মাওলানা তাজ উদ্দিন। তাদের মধ্যে তাজ উদ্দিন পলাতক আছেন।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন বলেন, ‌‘রায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় দেন। ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই একজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নির্বাচনী এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন। আহত হন অন্তত ২৯ জন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ও হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা শেখ আবদুস সালাম ২০২১ সালের নভেম্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

দুটি মামলাতেই আট জনকে খালাস ও নাইম আহমদকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। হত্যা মামলায় নাইমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বিস্ফোরক মামলায় তাকে আলাদা কোনও সাজা দেওয়া হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার নয় জন আসামির মধ্যে পাঁচ জন কারাগারে, তিন জন জামিনে ও একজন পলাতক। রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + eleven =